ব্যাটে রান নেই। প্রতি ম্যাচেই আউট হচ্ছেন দৃষ্টি কটুভাবে। কী হলো তামিম ইকবালের, এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে সবাই। তামিম নিজেও ব্যাকুল ছন্দে ফিরতে। আর তাই শরণাপন্ন হয়েছিলেন সাবেক গুরু জেমি সিডন্স। এই সময়ে তামিমকে অনেক বেশি ধৈর্যশীল হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন সাবেক গুরু সিডন্স।
২০০৭ থেকে ২০১১ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অস্ট্রেলিয়ার হয়ে একটি ওয়ানডে খেলা সিডন্স। তার সময়েই সাকিব আল হাসান, তামিম ইকবাল, মুশফিকুর রহিম হয়ে উঠেছিলেন আন্তর্জাতিক মানের ব্যাটসম্যান।
তিন ফরম্যাটেই বাংলাদেশের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক তামিম। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তার ব্যাটে রান নেই। ২০১৯ বিশ্বকাপে তার গড় ২৯.৩৭। শ্রীলঙ্কা সফরে প্রথম দুই ম্যাচে তার রান ০ ও ১৯। টানা ছয় ম্যাচে বোল্ড আউট হয়েছেন তামিম, এই বছরে যে সংখ্যাটা আরো দুই বেশি।
বিশ্বকাপে প্রথম তিন ম্যাচে যখন রান পাননি, তামিম তখন স্বীকার করে নেন বেশ চাপ অনুভব করছেন তিনি। বিশেষ করে বিশ্বকাপ এলেই যে ব্যাট কথা বলে না তার। ২০১৫ বিশ্বকাপেও বাজে সময়ের মধ্যে গেছেন। ৬ ইনিংসে করেছিলেন মাত্র ১৫৪ রান। সাম্প্রতিক ম্যাচগুলোতে ভালো শুরু পাচ্ছেন। কিন্তু যেই না মনে হচ্ছে সেট হয়ে গেছেন, ফিরতে হচ্ছে তখনই।
তা সিডন্স কি পরামর্শ দিলেন তামিমকে? এই মুহূর্তে সাউথ অস্ট্রেলিয়ার এই কোচ তামিমকে নিয়ে কথা বলেছেন ক্রিকইনফোর সঙ্গে। টাইগারদের সাবেক এই কোচ বলেছেন, ‘শ্রীলঙ্কা সিরিজ থেকে আমি তাকে (তামিম) দেখছি। আউট হওয়ার আগ পর্যন্তও তাকে স্বাচ্ছন্দ্যেই দেখাচ্ছে। প্রথম ম্যাচে দুর্দান্ত এক ইয়র্কারে (মালিঙ্গার ইয়র্কার) সে আউট হয়। দ্বিতীয় ম্যাচে সে যেভাবে আউট হলো, তার খেলার প্রয়োজন ছিল না। সে বলের ওপর বল প্রয়োগের চেষ্টা করেছে, যা তার করার প্রয়োজন নেই…। সে সম্ভবত কখনো অধৈর্য হয়ে পড়ছে।’
তাড়াহুড়া না করে সিডন্স বললেন ৫০ ওভার লক্ষ্য রেখে খেলতে, ‘দলগুলো তাকে বেশ ভালো বল করছে এবং তার খেলার সীমানা সীমাবদ্ধ রেখেছে। খেলাটা আরেকটু আয়ত্তের মধ্যে আসতে তার ধৈর্য ধরা প্রয়োজন। তাকে ৫০ ওভার লক্ষ্য করে খেলতে হবে। প্রথম ২০ ওভারেই সব রান করে ফেলব এমন হলে চলবে না।’
তামিমের বড় কোনো টেকনিক্যাল ত্রুটিও ধরা পড়ছে না সিডন্সের চোখে, ‘তামিম ট্যাকনিক্যালি ঠিক আছে। আমি সম্ভব তার সামনের পা কিছুটা সোজা করে দিতাম। তবে তাকে দেখতে এখন গ্রেট খেলোয়াড়দের মতো লাগে। সে বাংলাদেশের হয়ে অনন্য কিছু ইনিংস খেলেছে। তাকে ঠিক তেমন কিছুই করতে হবে। আমি শ্রীলঙ্কা সিরিজের প্রতিটি বলই দেখেছি কারণ সে আমাকে ফুটেজ পাঠিয়েছে, যে আমি কি ভাবছি…।’
সিডন্স মনে করছেন তামিমের ওপর যে প্রত্যাশা, সেটি এখন চাপ হয়েই দাঁড়িয়েছে এই ওপেনারের জন্য। তবে তামিম নিজেও অনেক বেশি চিন্তিত বলে মনে করেন সিডন্স, ‘আমি মনে করি তামিম, সাকিব, মুশফিকের ওপর যে প্রত্যাশা দলের, এটার কারণ তারা অনেক ওপরের সারির খেলোয়াড়। তার প্রত্যাশাও সাধারণ জনগণের মতোই। আমার দৃষ্টিকোণ থেকে বলব, তামিম অন্য সবার মতোই হতাশ। দুটি বিশ্বকাপই তার বাজে যাওয়াটা আমি কাকতাল মনে করি।’
তামিম যে পজিশনে ব্যাটিং করছেন সেটি যে অনেক কঠিন তা স্মরণ করিয়ে দিলেন সিডন্স, ‘ওপেনিংয়ে ব্যাট করা যে কোনো পজিশনের চেয়ে কঠিন। মিডল অর্ডারের চেয়ে বল চারদিকে অনেক বেশি নাড়াচাড়া করবে। সব থেকে এটা কঠিন পজিশন। বাংলাদেশের হয়ে কাজটা সে অনেক দিন ধরেই করে আসছে।’
‘আমি শুধু মনে করি কিছু ম্যাচে ভালো কিছু বল আর কিছু ম্যাচে প্লেড অন মিলে ভাগ্য তার সহায় হয়নি। বিস্ময়করভাবে বিশ্বকাপটাও এই সময়ের মধ্যে পড়ে গেছে।’
আগেও এমন বাজে সময়ের মধ্যে গেছেন তামিম এবং ফিরে এসেছেন দারুণভাবে। সিডন্স সহ সবার প্রত্যাশা, দ্রুতেই সুসময়ের দেখা পাবেন সিডন্স।