গাড়িতে ঢাবির স্টিকার লাগিয়ে ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীর মাদক ব্যবসা!

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) এক চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার গাড়িতে লাগিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসা করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওই কর্মচারী পলাতক রয়েছেন। চালক ও মালিকসহ প্রাইভেটকারটি  শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত ওই কর্মচারীর নাম সোহেল রানা। তিনি কলা অনুষদের ডিন অফিসের অধীনে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস শ্যাডোতে মোটরসাইকেল পাহারায় দায়িত্বে ছিলেন।

বুধবার ভোরে শহীদ মিনার এলাকা থেকে ঢাবির সলিমুল্লাহ মুসলিম (এসএম) হলের কয়েকজন শিক্ষার্থী সোহেল রানা নামের ওই কর্মচারীকে গাড়ি ও চালকসহ আটকের চেষ্টা করে।

তবে এসময় সোহেল পালিয়ে গেলেও চালককে আটক করে প্রক্টরিয়াল টিমের মাধ্যমে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে এসএম হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হল ছাত্রলীগের ছাত্রবৃত্তি-বিষয়ক সম্পাদক হাকিমুল ইসলাম তারেক দেশ রূপান্তরকে বলেন, “সকালে শহীদ মিনারে চা খাওয়ার জন্য  যাই। বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার লাগানো একটি প্রাইভেটকারের গতিবিধি সন্দেহজনক হলে হলের কয়েকজন ছোট ভাই সেটি আটক করে।”

তিনি বলেন, “পরে জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যায় তাদের একজন  কলাভবনের কর্মচারী। কথা বলার একপর্যায়ে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। আমরা চালককে আটক করে প্রক্টর অফিসের সামনে নিয়ে আসি। চালক  মাদক ব্যবসার কথা স্বীকার করেছেন। সোহেলের মাধ্যমে তিনি শিববাড়িতে মাদক সরবরাহ করেন বলে জানায়।”

আটক প্রাইভেটকার চালক আনোয়ার দেশ রূপান্তরকে বলেন, “আমি প্রাইভেটকারটি উবারে চালাই। উবারে গাড়ি চালানোর সময় প্রায় ছয় মাস আগে সোহেলের সঙ্গে পরিচয় হয়। এরপর মহাখালী থেকে বেশ কয়েকবার মাদক নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিববাড়িতে সোহেলসহ আসি।”

তিনি বলেন, “মঙ্গলবার রাতেও পাঁচ কেইস বিয়ার নিয়ে মহাখালী থেকে আসার সময় বিজয় সরণি এলাকায় পুলিশের হাতে আটক হই। সেখানে ১২ হাজার টাকা দিয়ে ছাড়া পেয়ে শহীদ মিনারে আসি।”

ঢাবির স্টিকার কখন লাগিয়েছেন জানতে চাইলে চালক বলেন, “চলতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি ঢাবির স্টিকার গাড়িতে লাগিয়েছেন কর্মচারী সোহেল। এই স্টিকার লাগিয়ে বিভিন্ন সিগনালে এবং বিশ্ববিদ্যালয় এরিয়ায় মাদক সরবরাহ করা হতো। ঢাবির স্টিকার দেখলে অনেক সময় সন্দেহমুক্ত থাকতাম।”

সোহেল রানা কোথায় জানতে চাইলে চালক বলেন, “তখন আমার সঙ্গেই ছিলেন। কিন্তু দৌড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর ফোন বন্ধ করে দিয়েছেন।”

গাড়ির মূল মালিক রাজধানীর মগবাজার ওয়ারলেস গেট এলাকার বাসিন্দা তাহমিনা রিপা দেশ রূপান্তরকে বলেন, “আমি গাড়িটি চুক্তিভিত্তিক ভাড়া দিয়েছি। মাসে ৩০ হাজার টাকা ড্রাইভার থেকে বুঝে নেই। কিন্তু সে এ কাজ করবে আমরা বুঝতে পারিনি।”

এদিকে সোহেল রানার ব্যক্তিগত ফোনে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও সেটি বন্ধ পাওয়া যায়।

ঢাবির কলাভবনের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সুপারভাইজার মকবুল আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, “তার (সোহেল) এই সময় ডিউটিতে থাকার কথা। কিন্তু সে আসেনি। তার ফোন বন্ধ।”

এবিষয়ে কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক আবু মো. দেলোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, “সোহেল নামে একজন কর্মচারী আছে। তবে তাকে যেহেতু এখন পাওয়া যাচ্ছে না, অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে যা যা ব্যবস্থা নেওয়ার সব নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীর দায় আমরা নেব না।”

জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর  অধ্যাপক এ কে এম গোলাম রাব্বানী দেশ রূপান্তরকে বলেন, “এটা বড় অন্যায়। সে দুটি অন্যায় করেছে। সে অনুমতি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের স্টিকার লাগিয়েছে এবং মাদক ব্যবসা করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সম্মান এতে জড়িত।”

তিনি বলেন, “অভিযুক্তদের নামে দুইটি মামলা করবে বিশ্ববিদ্যালয়। তাদেরকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয়েছে। আর ওই কর্মচারীকে এই মুহূর্তে পাওয়া যাচ্ছে না। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।”