কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গু জ্বর মহামারি রূপ নিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও নতুন আক্রান্ত ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছে। এতে জেলা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে ডেঙ্গু আতঙ্ক।
এদিকে এডিস মশার বংশ বিস্তার ঠেকাতে জেলা প্রশাসন, পৌরসভা কিংবা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ না থাকায় জেলাজুড়ে জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
এদিকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে কয়েল ও মশারি কিনতে ভিড় জমাচ্ছেন এলাকাবাসি।
জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয়ের তথ্য মতে কিশোরগঞ্জে বুধবার সকাল ১১টা পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮৫ জনে। এর মধ্যে ৫৯ জন চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছে দাবি করছেন তারা। ৬ জন রোগীকে ঢাকা প্রেরণ করা হয়েছে।
কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত এ ২৪ ঘণ্টায় আক্রান্ত হয়ে আরও ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত করে জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
ফলে বুধবার সকাল আট পর্যন্ত কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ৩৯ জন, ভৈরবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৭জন, বাজিতপুরের জহুরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৩০ জন, বাজিতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২জন, রাষ্ট্রপতি আব্দুল হামিদ মেডিক্যাল কলেজে ২ জন, পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ১ জনসহ জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার ক্লিনিকে আরও ২৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী চিকিৎসা চলছে। এতে কিশোরগঞ্জ জেলায় সর্বমোট ১২৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি আছেন।
হাসপাতালের একটি সূত্র জানায়, সোমবার একজন রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ায় ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে আরও ৫ জনকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে বলেও জানা যায়। প্রতিদিন নতুন করে আক্রান্ত হয়ে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা।
শহরের তমালতলা এলাকা থেকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা নিতে আসা শফিকুল ইসলাম (৩৭) বলেন, আমার বোনকে ঢাকায় দেখতে গিয়ে আক্রান্ত হই। এখানে হাসপাতালে অন্যান্য রোগীদের সাথে আমাদের গাদাগাদি করে রাখা হয়েছে। এতে আমাদের চিকিৎসা ঠিকমতো পাচ্ছিনা।
করিমগঞ্জের খুদির জঙ্গল গ্রাম থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রুমা আক্তার (৩০) বলেন, ঢাকায় ভাই বোন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হলে আমি দেখতে গিয়ে আমিও আক্রান্ত হই। পরে কিশোরগঞ্জে এসে হাসপাতালে ভর্তি হই। তাদের মতো বেশিরভাগ রোগী জানিয়েছেন তারা ঢাকা থেকে আক্রান্ত হয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এদিকে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হওয়ার ভয়ে ব্যক্তিগত উদ্যোগে বেড়েছে মশা মারার কয়েল ও মশারি কিনার ধুম পড়েছে দোকান গুলোতে। বিভিন্ন মশারির দোকান ঘুরে দেখা যায়, মানুষ ভিড় জমিয়েছে। তারা বেশি দাম দিয়েও এখন তৈরী মশারি মিলাতে পারছে না। দোকানিরা কয়েলের দামও বাড়িয়ে দিয়েছে।
কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. হাবিবুর রহমান জানান, আমরা ডেঙ্গু রোগীদের আলাদাভাবে মশারি টানিয়ে গুরুত্ব সহকারে চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি। প্রতিদিনই আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে। এখানে চিকিৎসা নিয়ে এ পর্যন্ত ৫৯ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরেছেন। জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ১২৬ জন চিকিৎসাধীন রয়েছে। আর রোগীর অবস্থা অবনতি দেখলে তাৎক্ষণিক ঢাকা মেডিক্যাল কলেজে প্রেরণ করা হচ্ছে।