বগুড়া শহরে ওষুধের দোকানে র্যাবের ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালাতে গেলে ব্যবসায়ীরা দোকান বন্ধ করে দেয়। শহরের সাতমাথায় অবস্থান নিলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
এসময় পুলিশ ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দিতে গেলে তারা মারমুখী আচরণ শুরু করে। পরে পুলিশ লাঠি চার্জ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয় এবং একজনকে আটক করে। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের খান মার্কেটে এ ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, র্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানির সদস্যদের নিয়ে র্যাব সদর দফতরের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমানের নেতৃত্বে বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে শহরের খান মার্কেটে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান পরিচালনা করতে যান। ভ্রাম্যমাণ আদালতের উপস্থিতি টের পেয়ে ওষুধ ব্যবসায়ীরা একের পর এক দোকান বন্ধ করে দেয়। এরপর ব্যবসায়ীরা একজোট হয়ে খান মার্কেট সংলগ্ন সাতমাথায় গিয়ে অবস্থান নেয়।
এতে যানবাহন চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হলে পুলিশ তাদের রাস্তা থেকে সরিয়ে দিতে গেলে ব্যবসায়ীরা পুলিশের ওপর চড়াও হয়। এ সময় পুলিশ লাঠি চার্জ করে ব্যবসায়ীদের সরিয়ে দেয় এবং একজনকে আটক করে।
বগুড়া কেমিস্ট অ্যান্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির সভাপতি রফি নেওয়াজ খান রবিন বলেন, ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনায় কেউ বাধা দেয়নি। দোকান বন্ধ করা হলেও পরে খোলা হয়েছে। তবে অনেকে দোকান বন্ধ করে বাড়ি চলে যাওয়ায় সেই দোকানগুলো বন্ধ রয়েছে।
এ দিকে র্যাব-১২ বগুড়া স্পেশাল কোম্পানির পক্ষ থেকে বিকেল ৪ টায় খান মার্কেটের সামনে এক প্রেস ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়।
সেখানে র্যাব-১২ এর কোম্পানি কমাণ্ডার মেজর এসএম মোরশেদ হাসান এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আনিসুর রহমান কথা বলেন।
তারা জানান, এটি র্যাবের একটি নিয়মিত অভিযান। ভেজাল বিরোধী পণ্যসহ ৭টি বিষয়ে র্যাব অভিযান পরিচালনা করে। তারই অংশ হিসেবে গত বুধবার রাতে তিনটি বেসরকারি হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে ৭ লাখ টাকা জরিমানা এবং বৃহস্পতিবার ওষুধের দোকানগুলোতে অভিযান চালিয়ে ৪টি দোকানের এক লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। এই অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তারা।