বরিশালে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। হাসপাতালে ডেঙ্গুর জন্য আলাদা ওয়ার্ড নেই। বিছানা না পেয়ে মেঝেতে কিংবা বারান্দায় ঠাঁই হয়েছে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের।
শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিল ১১৪জন। যার মধ্যে ২৪ ঘণ্টায় নতুন ভর্তি হওয়া রোগী ৪৬জন।
সরেজমিনে দেখো গেছে, শেবাচিম হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড নেই। বিনা মূল্যে ওষুধ এবং প্রতীকী মূল্যে ডেঙ্গু ভাইরাস পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগও অপ্রতুল। রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, চিকিৎসাধীন রোগীর গ্লুকোজ স্যালাইনও কিনতে হয় বাইরের ফার্মেসি থেকে। সরকারি এই হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর প্লাটিলেট পরীক্ষার জন্য এন্টিজেন আসেনি এখন পর্যন্ত।
এদিকে বাইরের ক্লিনিক আর ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে সরকার নির্ধারিত ফি’র অতিরিক্ত অর্থ খরচ করে রোগ পরীক্ষায় বাধ্য হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা। প্রশাসন এবং গণমাধ্যমের চাপে ডায়াগনস্টিক সেন্টারগুলো ডেঙ্গু পরীক্ষায় অতিরিক্ত অর্থ নিতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর পরীক্ষা নিরীক্ষা বন্ধ করে দিয়েছিল। এতে রোগী ও স্বজনরা দিশেহারা হয়ে পড়েন। খবর পেয়ে ওই রাতেই সিটি মেয়র সাদিক আবদুল্লাহ হাসপাতালে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পান। এ সময় তিনি ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিকদের ডেকে সরকার নির্ধারিত ফি’র মধ্যে ডেঙ্গু রোগীদের পরীক্ষার নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
শেবাচিম হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকির হোসেন বলেন, ডেঙ্গু শনাক্তকরণের ব্লাড প্লাটিলেট পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে এন্টিজেন এবং রোগীদের জন্য গ্লুকোজ স্যালাইন সরবরাহ নেই। দ্রুত সেগুলো সরবরাহের জন্য বলা হয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য হাসপাতালে শিগগিরই একটি পৃথক ওয়ার্ড চালুসহ তাদের চিকিৎসায় সর্বাত্মক চেষ্টা করার কথা বলেন তিনি।
গত ১৬ জুলাই থেকে শুক্রবার সকাল পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগী ভর্তি হয়েছেন ১৮৭ জন। এর মধ্যে চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে ৭১জন বাড়ি ফিরে গেছে। দুজন আক্রান্ত রোগী মারা গেছে।