শোকাবহ পনেরো আগস্ট উপলক্ষে ঢাবি ছাত্রলীগ মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে চিঠির আয়োজনটি সাড়া ফেলেছে সর্বত্র।
শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের (টিএসসি) প্রাঙ্গণে ঢাবি ছাত্রলীগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘পিতার কাছে চিঠি’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে এ চিঠি লেখেন তারা।
এদিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে উদ্দেশ্য করে চিঠি লিখেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ২১০ জন শিক্ষার্থী। চিঠি পাঠানের পোস্ট কোড ছিল ১৯৭১ এবং ঠিকানা ছিল বাংলাদেশ। পরে ফানুসের মাধ্যমে চিঠি উড়ানো হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা একটি সাদা পৃষ্ঠায় বঙ্গবন্ধুর প্রতি তাদের ভালোবাসা, সম্মান, তাকে না পাওয়ার আকুতি জানিয়ে চিঠি লিখেন। পরে বঙ্গবন্ধুর উদ্দেশে লিখিত চিঠিগুলো এক সঙ্গে বেলুনে করে আকাশে উড়িয়ে দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মো. মোসাহিদ আলী বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুকে না দেখা ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা। ছোটবেলা থেকে ঘুমানোর সময় বাবা বঙ্গবন্ধুর গল্প বলে ঘুম পাড়াতেন। আজকে চিঠিতে বঙ্গবন্ধুকে না দেখার যে বেদনা তা কিছুটা লিখতে পেরেছি। বঙ্গবন্ধু যে আদর্শ রেখে গিয়েছেন, সারা জীবন সেটা যেন ধারণ করতে পারি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি সনজিৎ চন্দ্র দাসের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন।
অনুষ্ঠানে রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন বলেন, এদেশের প্রত্যেক তরুণই এক একজন বঙ্গবন্ধু। ১৯৭৫ সালে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করে খুনিরা ভেবেছিল তার নাম ইতিহাস থেকে মুছে যাবে। কিন্তু জীবিত বঙ্গবন্ধুর চেয়ে মৃত বঙ্গবন্ধু আরও বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি সঞ্জিত চন্দ্র দাস বলেন, পিতা মুজিবের নিকট আমাদের যে দাবি দাওয়া আছে তা আমরা চিঠিতে লিখে ফানুসের মাধ্যমে উড়িয়ে দেব।
ঢাবি ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর সহসাধারণ সম্পাদক (এজিএস) সাদ্দাম হোসেন বলেন, ‘একজন সন্তান হয়েই সবাই আজ বঙ্গবন্ধুর প্রতি চিঠি লিখেছেন। শিক্ষার্থীরা তাদের ভাবনার কথা, বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তাদের যে প্রেম, ভালোবাসা রয়েছে তার কথা লিখছেন, লিখেছেন তার সংগ্রামের প্রতি শ্রদ্ধার কথা।’