বছরে একবার নির্মিত হয় মসজিদটি

সাব-সাহারান আফ্রিকার প্রাচীনতম শহরগুলোর মধ্যে অন্যতম জেন্নে। সাহারা মরুভূতির দক্ষিণাঞ্চলের দেশ মালির নাইজার ও বনি নদীর অববাহিকায় অবস্থিত এই শহর। জেন্নের অস্তিত্ব খ্রিস্টপূর্ব ২৫০ সালের পুঁথিতেও পাওয়া যায়। ১৩ থেকে ১৮ শতকের মাঝে আফ্রিকায় লবণ ও স্বর্ণ পরিবহনের অন্যতম পথ ছিল জেন্নে।

বাণিজ্য কাফেলার সঙ্গে ওই সময়ই ইসলামিক চিন্তাবিদদের পাশাপাশি অনেক পুঁথিও প্রবেশ করে মালিতে। তখন থেকেই মূলত দেশটিতে ইসলামিক শাসনের শুরু। খুব বেশি সময় লাগেনি আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে ইসলামিক চিন্তাভাবনার কেন্দ্র হয়ে উঠতে মালির।

জেন্নের কেন্দ্রস্থলে রয়েছে মাটি দিয়ে নির্মিত বিশ্বের সবচেয়ে বড় মসজিদ। ৯১ মিটার আয়তনের জায়গার ওপর ২০ মিটার দীর্ঘ এই সুদান-সাহেলি স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত মসজিদটি অবস্থিত। মসজিদের রয়েছে তিনটি স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন মিনার। এর দেয়ালে রয়েছে তালগাছের তক্তা দেওয়া, যা তোরণ নামে পরিচিত। আর পুরো কাঠামোটি দাঁড়িয়ে আছে ৯০টি কাঠের কলামের ওপর।

গ্রীষ্মের তপ্ত দিনেও মসজিদের ভেতর বেশ শীতল থাকে। মসজিদের ছাদ খুলে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে, যাদে শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত বাতাস প্রবেশ করতে পারে। কিন্তু বর্ষাকালে আবার ছাদ বন্ধ রাখার জন্য টেরাকোটার কপাট ব্যবহার করা হয়। মসজিদে একত্রে তিন হাজার মানুষ নামাজ পড়তে পারে।

প্রতি বছরের এপ্রিল মাসে জেন্নের এই বিশাল মসজিদের দেয়ালগুলো সংস্কার করা হয়। যেদিন ওই কাজ করা হয়, সেদিনকে স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘লা ক্রেপিসাসেজ’। প্রতি বছর দেয়ালের সংস্কার প্রয়োজন হয়। শহরের অন্য বাড়িঘরেও এই নিয়ম অনুসরণ করে প্রতি বছর দেয়াল সংস্কার করা হয়। জুলাই থেকে আগস্টে তীব্র বর্ষার মধ্যে মসজিদটি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় তাই ওই সংস্কার।

শুধু দেয়াল সংস্কারের মধ্যেই ওই দিনটি সীমাবদ্ধ থাকে না। জেন্নে শহরের বাসিন্দাদের বিশ্বাস আর ঐতিহ্যের এক অপূর্ব মিশেলে উৎসবে পরিণত হয় দিনটি। সংস্কারের আগের দিন রাতে শহরের বাসিন্দারা গান গায় ও সমবেত নৃত্যে অংশ নেয়। ভোর ৪টার সময় চূড়ান্ত সংকেত দেওয়ার আগ পর্যন্ত চলে ওই উৎসব। নিকটবর্তী নদী থেকে আনা কাদামাটি, ধানের তুষ, শিয়া গাছের ফল থেকে তৈরি করা মাখন, বাওবাব গাছের গুঁড়ো ও পানি দিয়ে তৈরি করা হয় দেয়াল সংস্কারের উপকরণ।