খুলনায় কোরবানির পশুর দাম নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা

আসন্ন ঈদুল আজহায় খুলনায় চাহিদার চেয়ে জোগান বেশি হওয়ায় পশুর দাম কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। স্থানীয় খামারিরা বলছেন, ঈদকে ঘিরে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতীয় গরুও কম-বেশি আসতে শুরু করেছে। এ পরিস্থিতিতে পশুর কাক্সিক্ষত দাম পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা ও শঙ্কা বিরাজ করছে।

একাধিক খামারি দেশ রূপান্তরকে জানান, খুলনার তেরখাদা, ফুলতলা, রূপসা, দিঘলিয়া ও ডুমুরিয়া উপজেলা; নড়াইলের কালিয়া এবং যশোরের অভয়নগর ও মনিরামপুরে খামারের সংখ্যা বেশি। ঈদ সামনে রেখে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে পশুর দরদাম শুরু করেছেন; কিনছেনও অনেকে। কোরবানিকে সামনে রেখে ব্যস্ত খুলনা অঞ্চলের গবাদিপশুর খামার মালিকরা। সম্পূর্ণ দেশি খাবারের ওপর নির্ভর করে পশুগুলোকে কোরবানির উপযুক্ত করে তুলছেন তারা।

গরু ব্যবসায়ী আছাবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত ৩-৪ বছরের তুলনায় এবার গরুর সংখ্যা বেশি। তার ওপর ভারতীয় গরুও আসছে। সেই গরুর দাম দেশি গরুর চেয়ে কম, মাংস বেশি। এতে করে খামারিরা সঠিক দাম পাচ্ছেন না।’

ডুমুরিয়ার রুদাঘরা এলাকার খামারি কাশেম হোসেন বলেন, ‘কোরবানিকে সামনে রেখে বিদেশি বিভিন্ন জাতের তিনটি গরু লালন-পালন করেছি। গরুর আকারভেদে প্রতিটির দাম ৮০ হাজার থেকে ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাব বলে আশা করেছিলাম। কিন্তু বাজারে গরু বেশি আসায় সেই দাম পাব বলে মনে হচ্ছে না।’

ফুলতলার মুজোরঘুটা এলাকার খামারি মনির হোসেন বলেন, ‘সারা বছর ধরে গরু পালন করি কোরবানির ঈদে বিক্রি করে কয়টা টাকা পাব বলে। গত বছর যে গরুটি বিক্রি করেছিলাম ১ লাখ ১০ হাজার টাকায়, এবার তার চেয়ে বড় গরুর দাম বলল মাত্র ৮০ হাজার টাকা। এতে খরচ উঠবে না।’

খুলনা বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, আসন্ন ঈদুল আজহায় খুলনা বিভাগের ১০ জেলায় প্রায় ৬ লাখ পশু কোরবানির সম্ভাবনা রয়েছে। বিপরীতে খামারি ও ব্যক্তিপর্যায়ে ৭ লাখ ৩১ হাজার ৮৪৪টি পশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ষাঁড় ২ লাখ ৮০ হাজার ৪৮টি, বলদ ৩১ হাজার ১৫০টি, গাভি (বাচ্চা উৎপাদনে অক্ষম) ৩৩ হাজার ৩৭৯টি, মহিষ ১৯ হাজার ৩৩টি, ছাগল ৩ লাখ ৭৫ হাজার ২৭০টি ও ভেড়া ৯ হাজার ৪৪৩টি। অন্যান্য গবাদিপশু আছে ৬২১ টি। এতে এ অঞ্চলের চাহিদা মিটিয়ে আরও ১ লাখ ২৫ হাজার পশু অন্য বিভাগে পাঠানো হবে।

অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মাসুদ আহমেদ খান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিভাগের ১০ জেলায় ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৩৯ জন খামারি রয়েছেন। চাহিদা অনুযায়ী খামারগুলোতে পর্যাপ্ত পশু আছে। তাই এবার অভ্যন্তরীণভাবে উৎপাদিত পশু দিয়েই কোরবানির পশুর চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে। এতে স্থানীয় খামারিরা লাভবান হবেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি থানায় অনেক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ইউনিয়নে গরু সুস্থ রাখতে মেডিকেল টিম কাজ করছে। কোরবানির জন্য খামারগুলোতে পশুর লালন-পালন কার্যক্রম নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।’