সংখ্যালঘু সুরক্ষায় আইন চায় ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি

সংখ্যালঘুদের সুরক্ষায় আইন প্রণয়নের দাবি জানিয়েছে একাত্তরের ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটি। গতকাল শুক্রবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এক সংবাদ সম্মেলনে ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর প্রসঙ্গ উল্লেখ করে এমন দাবি জানান সংগঠনের নেতারা। ফেইসবুকে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য ছড়িয়ে হিন্দুপল্লীতে হামলার ঘটনার ভুক্তভোগী ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রসরাজ দাস ও সঞ্জু বর্মণ সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।

শাহরিয়ার কবির জানান, সম্প্রতি মিরপুরের একটি স্কুলে নবম শ্রেণির এক ছাত্রীকে ওই স্কুলের শিক্ষক রমেশ কান্তি ঘোষ ইউনিফর্ম পরে আসতে বলার পরিপ্রেক্ষিতে ওই শিক্ষকের সঙ্গে ‘অসৌজন্যমূলক’ আচরণ করা হয়। এই নিয়ে ফেইসবুকে সাম্প্রদায়িক মন্তব্য করা হয়। তিনি বলেন, ‘রসরাজের ফেইসবুকে ইসলাম অবমাননার অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু রসরাজ দায়ী না হলেও তাকে তিন বছর ধরে আদালতে হাজিরা দিতে হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় ৯০ দিনের মধ্যে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার কথা থাকলেও রসরাজের মামলার প্রতিবেদন এখনো দেওয়া হয়নি।’

শাহরিয়ার কবির বলেন, ‘গত বছর অক্ষর-জ্ঞানহীন সঞ্জুর নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ইসলাম অবমাননার পোস্ট দেওয়ার অভিযোগ তুলে সঞ্জুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। জামিনে বের হওয়ার পরও সঞ্জু সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকেন।’

সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইনের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমাদের দেশে ধর্মীয় ও জাতিগত কারণে সংখ্যালঘু হওয়ার জন্য কেউ লাঞ্ছনা বা নির্যাতনের শিকার হবেন, তা মেনে নেওয়া যায় না। এ জন্য তাদের সুরক্ষায় আইন করা অতি জরুরি।’