কোচদের মান নিয়ে প্রশ্ন দুই শাটলারের

আসছে এসএ গেমসকে সামনে রেখে বিলম্বে হলেও গত বৃহস্পতিবার থেকে অনুশীলন শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন দল। ১ থেকে ১০ ডিসেম্বর নেপালের কাঠমান্ডু এবং পোখারায় এসএ গেমসের ১৩তম আসরকে সামনে রেখে আটজন ছেলে এবং ছয়জন মেয়ে শাটলারকে ডাকা হয়েছে ক্যাম্পে। যদিও এই ক্যাম্পের তিন কোচের মধ্যে দুজনকে নিয়ে প্রথম দিনই প্রশ্ন তুলে ক্যাম্পে যোগ দেননি দেশসেরা দুই মহিলা শাটলার শাপলা আক্তার ও এলিনা সুলতানা। বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাডমিন্টন ফেডারেশনের সভাপতির কাছে চিঠি দিয়ে গৌতম চন্দ্র পাল ও মারুফ আলমকে জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে পরীক্ষিত এবং সফল কোচদের হাতে জাতীয় দল তুলে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন তারা।

এলিনা সুলতানা ব্যাডমিন্টন এশিয়ার লেভেল-২ কোচ। শাপলা লেভেল-১ কোচিং কোর্স করেছেন অনেক দিন আগে। অথচ তাদের কোচ হিসেবে ফেডারেশন বেছে নিয়েছে গৌতম ও মারুফকে যাদের শীর্ষ পর্যায়ে কোচিং করানোর তেমন কোনো অভিজ্ঞতা নেই। তাছাড়া তাদের অধীন কোনো শাটলার সম্প্রতি শেষ হওয়া জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপের কোনো ইভেন্টেই সেরা ১৬-তে আসতে পারেননি। বহু বছর আগে গৌতম একবার জাতীয় দলকে কোচিং করালেও সাফল্য দিতে না পারায় আর তাকে বিবেচনা করা হয়নি। আর মারুফের এই পর্যায়ে কোচিং করানোর অভিজ্ঞতাই নেই। শাপলা ও এলিনা তাদের চিঠিতে জানিয়েছেন, এরকম মানহীন কোচের অধীনে অনুশীলন করলে তাদের পারফরম্যান্সে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই দুই কোচ ছাড়াও জাতীয় দলকে কোচিং করানোর জন্য নির্বাচন করা হয় লেভেল-২ কোচ নিখিল চন্দ্র ধরকে। যিনি ব্যাডমিন্টন এশিয়ার রিজিওনাল অফিসার হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় কর্মরত। তিনি নিজেই জানিয়েছেন জাতীয় দলের দায়িত্ব নিতে তার অপারগতার কথা, ‘আমি ব্যাডমিন্টন এশিয়ায় কর্মরত আছি। কাজের সুবাদে আমাকে এশিয়ার বিভিন্ন দেশে যেতে হয়। এ অবস্থায় আমার পক্ষে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেওয়া সম্ভব নয়।’ তার সহকারী অন্য দুই কোচকে নিয়ে শাপলা ও এলিনার প্রশ্ন তোলাকে যুক্তিযুক্ত মনে করছেন নিখিল, ‘বিষয় এমন হয়ে গেছে, কলেজের শিক্ষককে পড়াতে এসেছেন স্কুলের শিক্ষক।’

সাম্প্রতিক সময়ে কোচ হিসেবে বিভিন্ন পর্যায়ে সাফল্য পাওয়াদের বঞ্চিত করে মানহীন কোচদের দায়িত্ব দেওয়ায় শাপলা ও এলিনা ক্যাম্পে যোগ দেননি। যারা যোগ দিয়েছেন তাদের মধ্যেও রয়েছে কোচ নিয়ে বিভ্রান্তি। শাপলা বলেন, ‘বিগত ১২ বছরে আন্তর্জান্তিক যত সাফল্য এসেছে তার বেশিরভাগই এসেছে আমার আর এলিনার হাত ধরে। ব্যাডমিন্টন এমন একটি খেলা, যেখানে কোচের ভূমিকা অনেক। জাতীয় দলের কোচ নির্বাচনের আগে অবশ্যই কোচের যোগ্যতা, অভিজ্ঞতা এবং সেই কোচের অধীনে শাটলারদের সাফল্য বিচার করতে হয়। এ ক্ষেত্রে এগুলো কিছুই বিবেচিত হয়নি। এমন কোচের অধীনে অনুশীলন করলে আমাদের খেলার মানই নিচের দিকেই নামবে। তাই আমরা সভাপতির কাছে চিঠি দিয়েছি।’ শাপলা সেই ২০০৭ সাল থেকে অনুশীলন করেন সাবেক খেলোয়াড় ও কোচ ওয়াহেদুজ্জামান রাজুর অধীনে। তার কোচিংয়ে এবারও জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ট্রিপল ক্রাউন জিতেছেন তিনি। ওদিকে এলিনা সুলতানার দীর্ঘদিনের কোচ এক সময়ে দেশসেরা শাটলার এনায়েতউল্লাহ খান। গত বছর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে এ দুজনই ছিলেন জাতীয় দলের কোচের ভূমিকায়।

‘লেভেল-২ কোচিং কোর্স করেছি গত বছর। দীর্ঘদিন ব্যাডমিন্টন খেলার পর এখন আমার চেয়ে নিচের মানের কারও কাছে কোচিং করে কী শিখব? দক্ষিণ এশিয়ার অন্য দেশগুলোর শাটলাররা বছরব্যাপী আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট খেলে, ভালো কোচের তত্ত্বাবধানে থেকে নিজেদের মান অনেক বাড়িয়ে নিয়েছে। অথচ মানহীন কোচের অধীনে আমাদের কোচিং করিয়ে যদি সাফল্য আশা করা হয় সেটা কী করে দেব। এদের অধীনে দেখবেন গতবারের দুটি মেডেলও ধরে রাখা সম্ভব হবে না।’

শুধু শাপলা ও এলিনা নন, ছেলেদের শীর্ষে থাকা সালমান খানও নিয়মিত রাজু ও এনায়েতের অধীনে খেলেন। তারা ছাড়াও জাতীয় পর্যায়ে সাফল্য পাওয়া আরও কোচ রয়েছেন। যাদের বিবেচনা না করে ‘অসফল’ কোচদের পুরস্কৃত করা হয়েছে জাতীয় দলের কোচ করে। ফলে এসএ গেমসের গত আসরে পাওয়া দুটি ব্রোঞ্জ এবার ধরে রাখা কঠিন হয়ে যাবেÑ এই শঙ্কা খোদ শাটলারদেরই।