ব্যাপক রক্তক্ষয়ী সহিংসতা ও রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে চুক্তিতে আসতে বাধ্য হলো সুদানের সেনাবাহিনী। প্রধান বিরোধী জোটের সঙ্গে ভাগাভাগি করে একটি অন্তবর্তী সরকার গঠনে রাজি হয়েছে হয়েছে তারা।
বিবিসি জানায়, সুদানের রাজনৈতিক সংকট মোকাবেলায় এগিয়ে আসে আফ্রিকা ইউনিয়ন। শনিবার এর মধ্যস্তকারী মোহাম্মদ হাসান দুই পক্ষের মধ্যে চুক্তি নিয়ে এই সাংবিধানিক ঘোষণা দেন।
চুক্তি অনুসারে বিক্ষোভকারী প্রধান বিরোধী জোট এবং সামরিক কাউন্সিল ভাগাভাগি করে ৩৯ মাস দেশ পরিচালনা করবে। এই সময়ের মধ্যে একটি সার্বভৌম কাউন্সিল, মন্ত্রিপরিষদ এবং আইনসভা গঠিত হবে
সামরিক কাউন্সিল ২১ মাস এবং গণতন্ত্রকামী বিরোধী জোট বাকি ১৮ মাস ক্ষমতা নিয়ন্ত্রণ করবে। গণতন্ত্রকামী জোটই দেশটির প্রধানমন্ত্রী নির্বাচন করবে। স্বরাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থাকবে সেনাবাহিনীর হাতে।
দীর্ঘ রক্তক্ষয়ী বিক্ষোভের পর এই চুক্তিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে দেখছে গণতন্ত্রকামীরা।
গণবিক্ষোভের মুখে গত এপ্রিলে পদত্যাগ করতে বাধ্য হন ৩০ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা প্রেসিডেন্ট ওমর আল বশির। অর্থনৈতিক দুরবস্থা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে গত ডিসেম্বর থেকে এই বিক্ষোভ শুরু হয়।
ওমরকে গ্রেপ্তার করে সেনাবাহিনী দেশটির ক্ষমতায় আসলে জনগণের বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। একপর্যায়ে সেনা কাউন্সিল সরকারের প্রধানও পদত্যাগ করতে বাধ্য হয়।
কিন্তু সামরিক কাউন্সিল ক্ষমতা আঁকড়ে রাখলে বিক্ষোভ অব্যাহত থাকে। আন্দোলন দমনে বিক্ষোভকারীদের নির্বিচারে গুলি করে হত্যার অভিযোগও ওঠে সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে। এরপর দেশটির রাজনৈতিক সংকট আরও বৃদ্ধি পায়।