আসন্ন ঈদুল আজহায় নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত যাতায়াত নিশ্চিত করতে অতিরিক্ত যাত্রীবহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করাসহ ২০ দফা প্রস্তাব দিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। গতকাল শনিবার বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব প্রস্তাবনা দেওয়া হয়।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, দুর্যোগপূর্ণ ভরা বর্ষা মৌসুমের এই সময়ে কঠোর নিয়ন্ত্রণের মধ্যে নৌপথে ঈদযাত্রা নিশ্চিত করা না গেলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি রয়েছে। এইসব ঝুঁকি মোকাবিলা করে নিরাপদ ও নির্বিঘœ নৌপথে ঈদযাত্রা নিশ্চিত করতেসংগঠরটির দেওয়া ২০ দফা প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছেÑ যাত্রীবাহী সব ধরনের নৌযানে ওভারলোড বা অতিরিক্ত যাত্রীবহন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা। সবগুলো নৌবন্দর, লঞ্চঘাট, খেয়াঘাটে ঘাটভাড়ার নামে ইজারাদারের দৌরাত্ম্য, অতিরিক্ত টোল আদায় বন্ধ করা। নৌবন্দর ও লঞ্চঘাটে অজ্ঞান পার্টি, মলম পার্টি, প্রতারক চক্র, কুলিদের দৌরাত্ম্য বন্ধ করা। প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিশেষ করে উপকূলীয় অঞ্চলে, হাওর ও পাহাড়ি জনপদে অবৈধ, অনিবন্ধিত, ফিটনেসবিহীন, ঝুঁকিপূর্ণ নৌযান চলাচল নিষিদ্ধ করা। শিমুলিয়া-কাঁঠালবাড়ী ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ফেরি, লঞ্চ ও স্পিডবোটে অতিরিক্ত যাত্রীবহন নিষিদ্ধ করার পাশাপশি সুশৃঙ্খলভাবে চলাচল নিশ্চিত করা। সব নৌবন্দর ও লঞ্চঘাটে পুলিশ, র্যাব, কোস্টগার্ড ও আনসার বাহিনী মোতায়েন করে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। গুরুত্বপূর্ণ সব নৌবন্দর ও লঞ্চঘাটে সিসিটিভি স্থাপন করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। নৌপথে সব ধরনের অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা, যাত্রী হয়রানি ও ভাড়া নৈরাজ্য প্রতিরোধে সমুদ্র পরিবহন অধিদপ্তর, বিআইডব্লিউটিএ, ভোক্তা অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা। লঞ্চ টার্মিনাল ও নৌবন্দরের গণশৌচাগার ও অজুখানায় পর্যাপ্ত পানীয় জলের ব্যবস্থাসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা। ভাড়া নৈরাজ্য ও টিকিট কালোবাজারি বন্ধ করা। টিকিট দিয়ে ভাড়া আদায় নিশ্চিত করা। ঈদযাত্রার সময়কালে রাতের বেলায় সব ধরনের বালুবাহী ও পণ্যবাহী লঞ্চ চলাচল নিষিদ্ধ করা। সদরঘাট থেকে গুলিস্তান পর্যন্ত রাস্তা ও ফুটপাত যানজট ও দখলমুক্ত রাখা। রাতের বেলায় স্পিডবোট চলাচল বন্ধ রাখা। স্পিডবোটের যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিত করা। লঞ্চের স্বাভাবিক চলাচল নিশ্চিত করতে বয়া, বাতি ও মার্কিং ব্যবস্থা করা। স্পেশাল সার্ভিসের নামে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের নৈরাজ্য বন্ধ করা। প্রতিটি লঞ্চে লাইফ জ্যাকেটসহ যাত্রী অনুপাতে অন্যান্য নিরাপত্তা সরঞ্জাম নিশ্চিত করা। প্রতিটি লঞ্চে লাইসেন্সধারী প্রশিক্ষিত ও দক্ষ চালক, সারেং রাখার বিষয় নিশ্চিত করা। ভোলা-লক্ষ্মীপুর নৌরুটে ফেরি পারাপারে ভাড়া নৈরাজ্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করা। চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌরুটে কুমিরা-গুপ্তচরা ফেরিঘাটে ভাড়া নৈরাজ্য বন্ধ করা ও যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঢাকার সদরঘাট, নারায়ণগঞ্জের সেন্ট্রাল ঘাটসহ সকল নৌঘাটের খেয়া পারাপারে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা।
এ সম্পর্কে সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘অতিরিক্ত যাত্রী বহনের পাশাপাশি সরকার নির্ধারিত ভাড়া আদায়ে এসব অসাধু তৎপরতা জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ করতে হবে।’