নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা। রবিবার আরও ভর্তি হয়েছে দুইজন। এ নিয়ে ওই হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা নয়জন।
তারা সকলে ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে বাড়িতে ফিরে এসে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, জেলা শহরের পুরাতন স্টেশনপাড়ার মহসিন আলী (১৮) ও সবুজপাড়ার লিখন (১৮) নামের দুই যুবক ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে রবিবার হাসপাতালে ভর্তি হয়। এ নিয়ে ভর্তি হওয়া রোগীর সংখ্যা নয়জন।
তাদের মধ্যে জেলা সদরের লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়নের লক্ষ্মীচাপ গ্রামের রায়হান ইসলাম (১৭), ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের বড়গাছা গ্রামের হরিদাস রায় (৩০), জেলা সদরের চওড়াবড়গাছা ইউনিয়নের কিসামত দলুয়া গ্রামের সুজন রায় (১৬) ও রবিবার ভর্তি হওয়া দুই জনসহ পাঁচ জনের চিকিৎসা চলছে হাসপাতালে ।
অপর চার জনের মধ্যে গত শনিবার সকালে ডোমার উপজেলার সোনারায় ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের রিয়াজুল ইসলাম (২৫), গত শুক্রবার বিকেলে জেলা শহরের গাছবাড়ি এলাকার আব্দুল লতিফ (৪৫), ৩১ জুলাই জেলা সদরের চড়াইখোলা ইউনিয়নের পশ্চিম কুচিয়ার মোড় গ্রামের পরিতোষ রায়কে (২৮) উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে গত ৩১ জুলাই বাড়িতে ফিরেছে জেলা সদরের রামনগর ইউনিয়নের দোলাপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম (২৪)।
গত ২৫ জুলাই থেকে ডেঙ্গু রোগী আসা শুরু হয় নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে। সেদিন ভর্তি হয় আব্দুর রহিম এবং পরিতোষ রায়। ৩০ জুলাই আব্দুল লতিফ এবং ৩১ জুলাই হরিদাস, সুজন ও রিয়াজুল ভর্তি হয়। গত শনিবার সকালে ভর্তি হয় রায়হান।
নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. আবু শফি মাহমুদ ডেঙ্গু আক্রান্ত ওই নয়জনের ভর্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ডোমার উজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুই দিনে ভর্তি হয়েছে তিন জন। তাদের মধ্যে জলঢাকা উপজেলার ধর্মপাল ইউনিয়নের গড়ধর্মপাল গ্রামের সাহাবুল ইসলাম (২২), ডোমার পৌরসভার চিকনমাটি গ্রামের মাহাবুল ইসলামকে (১৯) গত শনিবার এবং ডোমার উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়নের মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের জ্যোতিষ রায়কে (২০) রবিবার রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
বিষয়টি নিশ্চিত করে ডোমার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা রায়হান বারি বলেন,‘তারা সকলে ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে এলাকায় ফিরেছে।’
সিভিল সার্জন রণজিৎ কুমার বর্মন বলেন, রবিবার পর্যন্ত জেলায় ৩১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তারা সকলে ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে এলাকায় এসেছে। তাদের মধ্যে কেউ হাসপাতালে, কেউ বাড়িতে চিকিৎসা নিচ্ছে, কেউ সুস্থ হয়েছে, আবার অনেকে জেলার বাইরের হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছে।