‘সাকিবের চুক্তি ভিত্তিহীন’

আগে বিপিএল দলের মালিকানা নবায়ন করতে হবে

আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ (বিপিএল) সামনে রেখে দল গোছাতে শুরু করেছে দলগুলো। বিপিএলের সপ্তম আসরের জন্য দেশি-বিদেশি ক্রিকেটারদের সঙ্গে চুক্তি করতে ব্যস্ত তারা। এরই মধ্যে সাকিব আল হাসান ঢাকা ডায়নামাইটস ছেড়ে যোগ দিয়েছেন রংপুর রাইডার্সে। এদিকে বিসিবির কাছ থেকে ঘোষণা এলো দলগুলোর সঙ্গে তাদের চুক্তির মেয়াদ শেষ। নতুন চুক্তি করে তবেই দল গোছানোর কাজ শুরু করতে পারে ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো।

সম্প্রতি দুটি ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের মালিকানা ধরে রাখতে অপারগতা প্রকাশ করে। সেই সঙ্গে দলগুলোর সঙ্গে আগের চুক্তির মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যাওয়ার বিষয় যোগ হয়। এসব নিয়ে গতকাল রবিবার বিকেলে এক আলোচনা সভা করে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল। সভা শেষে জানানো হয় সিদ্ধান্তগুলো।

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে ২০১২ সালে বিপিএল শুরুর সময়ই ছয় মৌসুমের চুক্তি নির্ধারিত ছিল। চুক্তির সেটি ছিল প্রথম চক্র। ২০১৯-এর আসর দিয়ে ছয় আসর পূর্ণ হওয়ায় শেষ হয়েছে সেই চুক্তির মেয়াদ। এবার সপ্তম আসর থেকে শুরু হবে নতুন চক্র। এই চুক্তি হবে চার মৌসুমের, মানে দশম মৌসুম পর্যন্ত। নতুন চুক্তি করার পরই ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো ক্রিকেটারদের দলে নেওয়ার পদ্ধতি, কোন ক্যাটাগরিতে কে থাকছেন এবং অন্য সবকিছুই নির্ধারণ করা হবে। তাই নতুন চুক্তির আগেই সাকিব আল হাসানের রংপুর রাইডার্সে যাওয়ার আনুষ্ঠানিকতা ভিত্তিহীন ও অবৈধ বলে জানিয়েছে বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিল।

এদিকে, ভারতীয় ক্রিকেট ওয়েবসাইট ক্রিকবাজকে রংপুর রাইডার্সের প্রধান নির্বাহী ইশতিয়াক সাদিক বলেছেন, ‘বিসিবি প্রতি বছরই একের পর এক নিয়ম পরিবর্তন করে। যদি এবারও তাই হয় তাহলে আমরা বিপিএলে অংশ নেব না। প্রতি আসরে ১০ থেকে ১৫ কোটি টাকা খরচ করে দল চালাই। বিসিবির আরও অনেক দল রয়েছে, তাদের খেলানো হোক।’ চিটাগং ভাইকিংস কর্র্তৃপক্ষ এর মধ্যেই আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর ফ্র্যাঞ্চাইজি ধরে রাখতে ইচ্ছুক নয়। নতুন চক্রে সর্বোচ্চ আট দল নিয়ে বিপিএল আয়োজন করতে চায় তারা। তবে ফ্র্যাঞ্চাইজি না পাওয়া গেলে দল কম হতে পারে।

তাহলে যে চুক্তিগুলো হচ্ছে তার কী হবে। এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের অন্যতম পরিচালক মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ‘দেখুন, বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সঙ্গে এখনো কোনো ফ্র্যাঞ্চাইজির নতুন চুক্তি হয়নি, তারা (দলগুলো) যা করেছে, সেটির সঙ্গে বিসিবি বা বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের কোনো সম্পর্ক নেই। এটির স্বীকৃতিরও দরকার নেই, আলোচনারও দরকার নেই। দলগুলোর সঙ্গেই যেখানে চুক্তি নেই, নিয়মগুলোর আউটলাইনই যদি না থাকে, যা কিছুই করা হোক, সেটির গ্রহণযোগ্যতায় কোনো অবস্থান নেই। এই চুক্তির তো কোনো বৈধতা নেই। যে চুক্তির বৈধতা নেই, সেটিকে নিয়ে আলাপ-আলোচনার যুক্তিই দেখি না। শুধু সাকিব নয়, আরও অনেক নাম এসেছে। আমরা শুনেছি। সবার ক্ষেত্রেই একই বাস্তবতা।’

ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর সঙ্গে ছয় মৌসুম মেয়াদের চুক্তি যদি থেকেই থাকে, তবে নতুন চুক্তির আগে কেন সংবাদ সম্মেলন করে জানানো হচ্ছে। এই প্রশ্নের জবাবে মাহবুব আনাম বলেন, ‘আমাদের ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন ছিল না। তবু করতে হচ্ছে, কারণ উনারা (দলগুলো) যেহেতু ব্যাখ্যা দেননি, আমরা ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে দিলাম।’ বিশেষ করে নতুন চুক্তির আগে সাকিবের দলবদল হয়ে যাওয়ায় সবকিছু ব্যাখ্যা করার তাগিদ অনুভব করেছে বিসিবি।

মাহবুব আনাম জানিয়েছেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পুরনো ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোকে নতুন চুক্তির আলোচনার জন্য আহ্বান করবে তারা। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য অবশ্য সুনির্দিষ্ট কোনো দিনক্ষণ বেঁধে দেওয়া হয়নি। তবে গভর্নিং কাউন্সিলের আশা, এ মাসের মধ্যেই সেসবের সুরাহা হয়ে যাবে। বিপিএল শুরুর অন্তত দুই মাস আগে প্লেয়ার্স ড্রাফট আয়োজনের ইচ্ছে গভর্নিং কাউন্সিলের। এবারের বিপিএল শুরু হওয়ার কথা আগামী ৬ ডিসেম্বর, তার আগে ৩ ডিসেম্বর হবে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান।