জম্মু-কাশ্মীরকে ভেঙে দুই ভাগ করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার সিদ্ধান্তকে ‘অবৈধ’ বলেছে পাকিস্তান। ইমরান সরকার শুধু গতানুগতিক মন্তব্য করেই চুপ থাকেনি। ঠান্ডা একটা হুমকি দিয়েও রেখেছে।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে দেশটির প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ডন লিখেছে, ভারত সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য সব অপশন খতিয়ে কাউন্টার (জবাব) দেওয়া হবে।
সোমবার বিবৃতির মাধ্যমে পাকিস্তান নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করে, ‘ভারত সরকারের একতরফা সিদ্ধান্ত কাশ্মীরে পরিবর্তন আনতে পারে না। কারণ এটি জাতিসংঘের নিরাপত্তা কাউন্সিলের রেজুলেশনে সন্নিবেশিত। এই সিদ্ধান্ত পাকিস্তান এবং কাশ্মীরের মানুষ মেনে নেবে না।’
‘এটি আন্তর্জাতিক ইস্যু হওয়ায় পাকিস্তান সম্ভাব্য সব অপশন ব্যবহার করে ভারতের অবৈধ সিদ্ধান্তের কাউন্টার দেবে।’
কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে পাকিস্তানের সংসদে সোমবার দুপুরে আলোচনাও হয়েছে।
ক্ষমতাসীন বিজেপি ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদ বিলোপ করার ঘোষণা দিয়েছে। এখন থেকে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে দুই টুকরো করে লাদাখকে বের করে তৈরি করা হলো নতুন এক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে। অর্থাৎ জম্মু-কাশ্মীরের পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা থাকছে না। এখন থেকে তার পরিচিতি হবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবে। তবে তার বিধানসভা থাকবে। দুই কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল পরিচালিত করবেন দুই লেফটেন্যান্ট গভর্নর।
কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল মানে সরাসরি ভারত সরকার এই অঞ্চলের সব ধরনের সিদ্ধান্ত নেবে। ভারতে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলোর মধ্যে রয়েছে আন্দামান ও নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ, চণ্ডীগড়, দাদরা ও নগর হাভেলি, দমন ও দিউ, লাক্ষাদ্বীপ, পণ্ডিচেরি এবং দিল্লির জাতীয় রাজধানী অঞ্চল।
এসব অঞ্চল ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের যুক্তরাষ্ট্রীয় সরকার-ব্যবস্থার একটি উপ-রাষ্ট্রীয় প্রশাসনিক বিভাগ। অন্য রাজ্যের মতো কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে নিজস্ব নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থার অস্তিত্ব নেই। এই অঞ্চলগুলো সরাসরি কেন্দ্রীয় সরকার কর্তৃক শাসিত হয়। ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রত্যেক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের শাসনকার্য পরিচালনার জন্য একজন করে প্রশাসক অথবা লেফটেন্যান্ট গভর্নর নিয়োগ করে থাকেন।
কেন্দ্রশাসিত অন্য অঞ্চলগুলোর সঙ্গে দিল্লির আবার কিছুটা পার্থক্য আছে। পুদুচেরিকের সঙ্গে এই অঞ্চলটিকে আংশিক রাজ্যের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। দিল্লিকে বর্তমানে জাতীয় রাজধানী অঞ্চল নামে অভিহিত করা হয়। এই দুই অঞ্চলের নিজস্ব বিধানসভা ও মন্ত্রিপরিষদ রয়েছে। তবে ক্ষমতা সীমিত।
কাশ্মীর এখন থেকে এভাবে পরিচালিত হবে বলে ধারণা পাওয়া গেছে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর কথায়, ‘জম্মু ও কাশ্মীরকে দুটি অঞ্চলে বিভক্ত করা হবে। জম্মু ও কাশ্মীরের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে দিল্লির মতো একটি বিধানসভা থাকবে। বিধানসভা ছাড়াই একটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হবে লাদাখ।’