দেশি গরুতেই জমছে পশুর হাট

ঈদুল আজহা সামনে রেখে জমে উঠতে শুরু করেছে রাজশাহীর পশুর হাটগুলো। তবে এখনো পুরোদমে বেচাকেনা শুরু হয়নি। হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার সংখ্যা কম। এখন পর্যন্ত হাট যেটুকু জমেছে তা দেশি গরুতেই। ভারতীয় কিছু কিছু গরু হাটে উঠলেও তার সংখ্যা কম, সেগুলোর চাহিদাও কম। গতকাল রবিবার রাজশাহী নগরীর একাধিক হাট ঘুরে এ তথ্য জানা যায়। রাজশাহী অঞ্চলে সবচেয়ে বড় সিটি হাট গতকাল থেকে প্রতিদিন বসা শুরু করেছে।

সিটি হাটে গিয়ে দেখা যায়, প্রচুর দেশি গরু এসেছে। মূলত বিভিন্ন খামারে এবং গ্রামের বাড়িতে পালন করা গরু বেশি। সেই তুলনায় ক্রেতার সংখ্যা কম। যারা আসছেন তারাও দেখেশুনে ঘুরে যাচ্ছেন। গতকাল ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলার ব্যবসায়ীরা হাজির হয়েছিলেন সিটি হাটে। রাজশাহীর খামারিরা বলছেন, এবার এখন পর্যন্ত ভারতীয় গরু সেভাবে না আসায় তারা ভালো দাম পাওয়ার আশা করছেন। জেলার দুর্গাপুর থেকে দুটি গরু বিক্রি করতে এসেছেন আব্দুল কাদের। তিনি জানান, বাড়িতে এক বছর ধরে গরু দুটি লালনপালন করেছেন ভালো দামের আশায়। একেকটি গরুর দাম চাইছেন ১ লাখ ১০ হাজার টাকা করে। ক্রেতারা দেখছেন কিন্তু তেমন দাম বলছেন না। এখন পর্যন্ত ৭৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দাম বলেছে। পবা থেকে আসা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘হাটে গরুর দাম একদম খারাপ না। তবে ক্রেতা কম। যারা এসছেন তারাও সেভাবে দাম বলছেন না। দেখছেন আর ঘুরে যাচ্ছেন।’ এই হাটের ক্রেতা জাহিদ হোসেন বললেন, ‘ভালো গরুই এসেছে। দেশি অনেক সুন্দর গরু আছে। কিন্তু দাম একটু চড়া মনে হচ্ছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘মূলত হাটে একটু দামের ভাবসাব দেখতে এসেছি। একটা ধারণা নিয়ে যাচ্ছি। ২-৩ দিন পরে হয়তো কিনব।’ বাইরের জেলা থেকে আসা ব্যবসায়ীরা বলছেন দাম মোটামুটি ঠিকই আছে। তারা এখান থেকে গরু নিয়ে ঢাকার মার্কেটে উঠাবেন। ঢাকায় এক লাখের বেশি দামের গরুর চাহিদা বেশি। সেই অনুযায়ী এখান থেকে গরু পছন্দ করছেন।

সিটি হাটের ইজারাদার আতিকুর রহমান কালু বলেন, ‘হাট জমতে শুরু করেছে। মূলত দেশি গরুতেই হাট জমছে। বাইরের জেলা থেকেও পাইকারি ব্যবসায়ীরা আসছেন।’ দুয়েকদিনের মধ্যে ক্রেতার চাপ বাড়লে বিক্রিও বেড়ে যাবে বলে আশা করেন তিনি। রাজশাহীর বড় পশুর হাট হিসেবে পরিচিত বাগমারার তাহেরপুর, পুঠিয়ার হাট বানেশ্বর, গোদাগাড়ীর কাকনহাট, বাগমারার ভবানীগঞ্জেও কোরবানির গরু উঠতে শুরু করেছে। সেগুলোতেও বেশিরভাগই দেশি গরু। দেশি গরুর আগমন এবং চাহিদা দুটিই বেশি।

এদিকে ভারতীয় গরু না এলেও এবার কোরবানির পশুর কোনো সংকট হবে না বলে জানিয়েছেন অতিরিক্ত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. অন্তিম কুমার সরকার। তিনি বলেন, খামারমালিকরা স্থানীয়ভাবে কোরবানির পশু ও মাংসের চাহিদা মেটাতে সক্ষম হবেন। এ উদ্যোগ কোরবানির পশু আমদানিনির্ভরতাও কমাবে। এ কর্মকর্তা জানান, রাজশাহীতে কোরবানির জন্য গবাদি পশুর চাহিদা প্রায় চার লাখ। জেলায় ১৭ হাজার ৭০০ খামারে কোরবানির পশু রয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৬৯ হাজার। এর বাইরে অনেক কৃষকই বাড়িতে দু-একটি করে গরু পালন করেছেন।