কাশ্মীরে বিনিয়োগের রাস্তা খোলায় উচ্ছ্বসিত ভারতীয় শিল্পপতিরা

সংঘাতের কারণে কাশ্মীরে বন্ধ হয়ে যাওয়া কারখানা ফের খোলার ইচ্ছা প্রকাশ করছেন ভারতীয় শিল্প উদ্যোক্তাদের অনেকে। সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের পর সেখানে জমিও কিনতে পারবেন তারা।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, সাধারণত রাজনৈতিক বিষয়ে মুখ খুলতে অনীহা দেখানো শিল্পপতিরা সোমবার জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত।

মহিন্দ্র গোষ্ঠীর কর্ণধার আনন্দ মহিন্দ্র থেকে জেএসডব্লিউ গোষ্ঠীর সজ্জন জিন্দল— ৩৭০ ধারা বিলোপের ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, এই ঘোষণা আক্ষরিক অর্থেই ঐতিহাসিক। এর বদৌলতে বড় বিনিয়োগের রাস্তা খুলে যাবে জম্মু ও কাশ্মীরে। ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদে দেওয়া বিশেষ মর্যাদার জেরে যা এত দিন করা যেত না।

বলা হচ্ছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে থাকলে অক্টোবর নাগাদ জম্মু ও কাশ্মীরে বড় মাপের শিল্প সম্মেলনের আয়োজন করতে পারে কেন্দ্র। চেষ্টা হতে পারে বড় অঙ্কের লগ্নি-ঘোষণারও।

এই দিন মহিন্দ্র গ্রুপের চেয়ারম্যান আনন্দ মহিন্দ্র টুইটারে লেখেন, “কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়ার পর মনে হয়, এমনটা আগে করা যায়নি কেন!” আরও জানান, “এখন সময় কাশ্মীরিদের দেশের আমজনতার মধ্যে অবিচ্ছেদ্যভাবে আপন করে নেওয়ার।”

আদানি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা গৌতম আদানির মতে, ৩৭০ ধারা বিলোপ সত্যিই ঐতিহাসিক। এতে উন্নয়ন ও শান্তির দরজা খুলে যাবে। কাশ্মীরের পাশাপাশি শক্তিশালী হবে ভারত।

আরপিজি এন্টারপ্রাইজের চেয়ারম্যান হর্ষ গোয়েনকো লেখেন, “আমাদের দুটি কারখানা ছিল কাশ্মীরে। টিউলিপ বাগানও ছিল। জঙ্গি সমস্যায় সব বন্ধ। ৩৭০ ধারা বিলোপের সেখানে লগ্নি ফিরবে আশা করি। পৃথিবীর কোথাও স্বর্গ থাকলে তা ওখানেই।”

নিক্কো গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান রাজীব কল বলেন, “আমি খুশি। কারণ স্পষ্টই কাশ্মীর এখন দেশের অঙ্গ। এক সময় আমাদের পরিবারকে সেখান থেকে সরতে হয়েছে। সন্তান হিসেবে গ্রহণ করেছিল বাংলা। সেই আমি এবং যে কোনো ভারতীয় এখন সেখানে ফিরে জমি কিনতে পারবে।”

পিএইচডি চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট রাজীব তালোয়ারের মতে, ৩৭০ ধারা বিলোপ জম্মু ও কাশ্মীরে বড় ধরনের লগ্নির রাস্তা প্রশস্ত করবে। এই অঞ্চলের মানুষের উন্নয়নে কেন্দ্রের এই সিদ্ধান্ত বড় ভূমিকা নেবে।

সোমবার রাজ্যসভা ও লোকসভায় এই বিল নিয়ে আলোচনার সময়ে নরেন্দ্র মোদি সরকার বারবার বোঝাতে চেয়েছে যে, এই সিদ্ধান্তের মূল উদ্দেশ্য জম্মু ও কাশ্মীরকে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে পুরোদস্তুর যুক্ত করা। সেখানে লগ্নির রাস্তা প্রশস্ত করা। বিনিয়োগের সেই প্রতিশ্রুতির ইঙ্গিত ফুটে উঠেছে শিল্প মহলের কথাতেও।

তবে অনেকে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ৩৭০ ধারা বিলোপ নিয়ে যে শিল্প মহল উচ্ছ্বসিত, দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির বেহাল দশা নিয়ে তাদেরই মুখে কুলুপ।

কয়েক দিন আগেই কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি আশঙ্কা প্রকাশ করেন- অর্থনীতি যেভাবে মুখ থুবড়ে পড়েছে, তাতে বাস্তব সমস্যা থেকে নজর ঘোরানোর জন্য ফের না কাশ্মীরকে কাজে লাগানো হয়!  কার্যত তা-ই হলো।