ভারতের নিয়ন্ত্রণাধীন জম্মু-কাশ্মীরের জনগণের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রতি সমর্থন ও সংহতি জানিয়ে মানববন্ধন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একদল শিক্ষার্থী।
মঙ্গলবার দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে এই মানববন্ধন করে তারা।
এতে ছাত্র ইউনিয়ন, ছাত্র ফেডারেশন, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী, ইসলাম শাসনতন্ত্র ছাত্র আন্দোলন (ইশা), কোটা সংস্কার আন্দোলনকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা বাংলাদেশ সাধারণ শিক্ষার্থী অধিকার সংরক্ষণ পরিষদসহ বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে উপস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী আকরাম হোসাইন বলেন, ‘কাশ্মীর ১৯৪৭ সালে ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা অনুযায়ী কিছু শর্তের ভিত্তিতে ভারতীয় সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। কিন্তু ভারতীয় বাহিনী সেসব শর্ত ভঙ্গ করে তাদের ওপর নির্যাতন-নিপীড়ন চালাচ্ছে। যদি তাদের ওপর নিপীড়ন অব্যাহত রাখা হয় তাহলে সারা পৃথিবীর সাম্যবাদী মানুষ এর দাঁত ভাঙা জবাব দেবে।’
মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীরা কাশ্মীরিদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়ে বলেন, আজাদি ও মানবিক দাবিতে আমরা সংহতি জানাচ্ছি। ৭১ এর মুক্তিযোদ্ধা ও যেসব সেনারা যুদ্ধের মাধ্যমে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছিলেন তাদের যেমন সম্মানের চোখে দেখি, কাশ্মীরের সংগ্রামী জনতাকে, যারা ভারতীয় আগ্রাসন থেকে মুক্তি চাচ্ছে, তাদেরও একই চোখে দেখতে চাই।
এ সময় শিক্ষার্থীরা কাশ্মীর সমস্যার সমাধান ও কাশ্মীরি জনগণের দাবি পূরণে জাতিসংঘসহ সকল আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থা ও সংগঠনকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
উল্লেখ্য, সোমবার (০৫ আগস্ট) ভারত সরকার কাশ্মীর সংক্রান্ত ৩৭০ নম্বর অনুচ্ছেদটি বাতিলের ঘোষণা দেয় এবং কাশ্মীরের সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মুফতি মেহবুবা ও ওমর আবদুল্লাহকে গত রোববার গভীর রাতে গৃহবন্দী করে। এর প্রতিবাদে গতকাল থেকে কাশ্মীরের জনগণ স্বাধীনতার দাবিতে আন্দোলন করছে। ৩৭০ নং অনুচ্ছেদ অনুযায়ী জম্মু ও কাশ্মীর অন্য যেকোনো ভারতীয় রাজ্যের মতো স্বায়ত্তশাসন ভোগ করত এবং কাশ্মীরের নিজেদের সংবিধান ও একটি আলাদা পতাকার স্বাধীনতা ছিল।