আফ্রিকায় জিম্বাবুয়ে লড়ছে। তাদের ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও ক্রিকেট বোর্ড দ্রুত পৌঁছে গেছে সিদ্ধান্তে। ক্রিকেটাররা মরিয়া হয়ে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা বিনে পয়সায় খেলতে রাজি। এদিকে এশিয়ার দেশ বাংলাদেশের ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) নির্ধারিত সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরও আফ্রিকার দেশটির দিকে তাকিয়ে। জিম্বাবুয়ের প্রতীক্ষায়। বিসিবির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজামউদ্দিন চৌধুরী সুজন গতকাল দুপুরে মিরপুরে জানিয়ে গেলেন, তাদের আশা সেপ্টেম্বরের শুরুতে ঢাকায় আফগানিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ নয়, জিম্বাবুয়েকে নিয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজটাই হবে।
‘আইসিসির এফটিপি (ভবিষ্যৎ সফরসূচি) অনুযায়ী আফগানিস্তানের যে সফরটা ছিল একটা টেস্ট, ওয়ানডে বা টি-টোয়েন্টি খেলার ব্যাপারে সেটাকে আমরা জিম্বাবুয়ের অনুরোধে ত্রিদেশীয় সিরিজ করার সিদ্ধান্ত নিই গত আইসিসি মিটিংয়ে’Ñ আগের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করছিলেন সিইও সুজন। কিন্তু গেল মাসের শেষে ক্রিকেটের সর্বোচ্চ সংস্থা আইসিসি তাদের ইভেন্টে জিম্বাবুয়েকে নিষিদ্ধ করে। সেই সঙ্গে অক্টোবরের মধ্যে নিজেদের সব সমস্যা মিটিয়ে ফেলার পরামর্শ দেয়। ততদিন পর্যন্ত জিম্বাবুয়ের জন্য আইসিসির অনুদান থাকবে বন্ধ। জিম্বাবুয়ে বোর্ডে সে দেশের সরকারের হস্তক্ষেপ ও অর্থের কারচুপির বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে এই কঠোর ঘোষণাটা এসেছিল আইসিসি থেকে।
তাতে করে ঢাকায় বাংলাদেশ-আফগানিস্তান-জিম্বাবুয়ে তিনজাতি সিরিজে জিম্বাবুয়ের খেলা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। জিম্বাবুয়ের জন্য তার চেয়ে বড় মাথাব্যথার কারণ ভিন্ন। এর মধ্যে তাদের নারী দল আয়ারল্যান্ডে নির্ধারিত ত্রিদেশীয় সিরিজে খেলতে যেতে পারেনি। ওদিকে অক্টোবর-নভেম্বরে ২০২০-এর আইসিসি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। দ্রুত সমাধানে পৌঁছতে না পারলে জিম্বাবুয়ের বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন মাটি হবে। আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় গতকালের খবর, জিম্বাবুয়ে বোর্ড ও ক্রীড়ামন্ত্রক বৈঠকে বসে সমাধানে পৌঁছেছে দ্রুত। আইসিসির সব শর্ত মেনে নিয়ে বোর্ড চিঠি পাঠাতে যাচ্ছে। এসব ক্ষেত্রে আইসিসির কাছ থেকে খুব ঝটপট ইতিবাচক জবাব মেলে।
বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডও এসব আপডেটের ওপর চোখ রাখছে। নিয়মিত যোগাযোগ বহাল। বিসিবি সিইও সুজন প্রসঙ্গ টেনে বলছিলেন, ‘জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের কিছু নিষেধাজ্ঞার কারণে তাদের অংশগ্রহণ নিয়ে কিছু সংশয় তৈরি হয়েছিল। কিন্তু তাদের ক্রিকেট বোর্ড আমাদের কাছে সময় চেয়েছিল যে, এই বিষয়টি তারা মানিয়ে নিতে পারবে বা সিরিজে অংশ নেবে। আমরা আশা করছি দ্রুত তাদের ক্রিকেট বোর্ডের কনফার্মেশন আমরা পাব।’
শেষ পর্যন্ত যদি জিম্বাবুয়ের সমস্যার সমাধান না হয় তাহলে? বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন খুব আশাবাদী। তার বক্তব্য, এটা যেহেতু আইসিসি ইভেন্ট নয় তাহলে জিম্বাবুয়ের খেলতে বাধা কোথায়? তবু যেখানে একটি দেশের বোর্ড আইসিসির নিষেধাজ্ঞায় তাই কিছু প্রশ্ন থেকে যায়। বিসিবির প্রধান নির্বাহী সুজন বলছিলেন, ‘ম্যাচের স্ট্যাটাস সম্পর্কে কোনো অসুবিধা নেই। তারা আইসিসির কোনো টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পারবে না। সেগুলো আইসিসি ফলো করছে। তারা (জিম্বাবুয়ে বোর্ড) তাদের সরকারের সঙ্গে কথা বলছে, চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সিরিজটি যাতে হয়। আমাদের সঙ্গে সর্বশেষ যে কথা হয়েছে তারা বলেছে যে, সিরিজটি অন আছে। আশা করি দুয়েক দিনের মধ্যে ওদের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আমরা জানতে পারব।’
তারপরও যদি কোনো কারণে জিম্বাবুয়ের না আসা হয় তখন কী করা হবে সেটাও ভেবে রেখেছে বিসিবি। সুজনের ভাষায়, ‘যদি জিম্বাবুয়ে না আসে তাহলে আমরা আফগানিস্তানের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলব।’ এর আগে এফটিপিতে নির্ধারিত একটা টেস্ট তো থাকছেই। সবকিছু মাথায় রেখে সুজনের ব্যাখ্যা, ‘আমরা আফগানিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট ম্যাচটা খেলব। এরপর ট্রাইনেশন বা দ্বিপক্ষীয় টি-টোয়েন্টি খেলব। এটা সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ থেকেই শুরু হবে। সেভাবেই পরিকল্পনা আছে। এটা পরিবর্তন হবে কি না তা নিয়েও কিছু আলোচনা হচ্ছে বোর্ড টু বোর্ড।’