বেশি ওজনের ষাঁড় বিক্রি না হওয়ায় শঙ্কিত মালিকরা

অনলাইন বাজারসহ কোরবানির হাটে বেশ আলোচিত জেলার নাম এখন মানিকগঞ্জ। এই মানিকগঞ্জেই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ষাঁড়সহ বেশি ওজনের ষাঁড় লালন করে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে। কিন্তু ঈদের বাকি মাত্র কয়েকদিন। কিন্তু এখন পর্যন্ত ষাঁড়গুলো বিক্রি না করায় শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্ট খামারি। তবে প্রাণিসম্পদ অফিস বলছে, উপযুক্ত দামে বিক্রি না করতে পারলে এ শিল্পে ধস নামবে।

সিনবাদ, ভাগ্যরাজ, সোনাবাবুসহ মানিকগঞ্জে ৫০টি ষাঁড় এবার ঈদের জন্য বড় করা হয়েছিল।

এর মধ্যে সাটুরিয়া উপজেলার দরগ্রাম ইউনিয়নের সাফুল্লি গ্রামের বিল্লাল হোসেনের ৫৪ মণ ওজনের সিনবাদ, দেলুয়া গ্রামের ইতি আক্তারের ৫১ মণ ওজনের ভাগ্যরাজ, বালিয়াটীর গোপালনগর গ্রামের আবুল মিয়ার ২৮ মণ ওজনের সোনাবাবু, গোপালপুর গ্রামের আদম আলীর ২৫ মণ ওজনের, মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার চড় হিজলী গ্রামের আব্দুল করিমের ৩৫ মণ, সিংগাইর উপজেলার আজিমপুর গ্রামের বাবু রাজ নামে ৪৫ মণ এবং সিংগাইর সদর ইউনিয়নের ৩০ মণ ওজনের কালো মানিক নামের ওজনের ষাঁড় এবার ঈদে বিক্রি করার জন্য লালন-পালন করেছেন।

এছাড়া আরও বিভিন্ন ওজনের ৫০টি ষাঁড় রয়েছে যা দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। কিন্তু বুধবার দুপর পর্যন্ত এসব ষাঁড়ের একটিও বিক্রি করা যায়নি।

মানিকগঞ্জে বিগত ৫-৬ বছর ধরে বাংলাদেশের সবেচেয়ে বেশি ওজনের ষাঁড় উৎপাদিত হয়ে আসছে। ভালো দাম পাওয়ায় খামারিরা উৎসাহিত হয়ে এ বছরও ষাঁড় মোটাতাজাকরণ করেছে। কিন্তু কোরবানির আর অল্প কয়েকদিন বাকি থাকলেও এসব বেশি ওজনের ষাঁড় বিক্রি করতে পারেননি। ভালো দামে বিক্রি না করতে পারলে লাখ লাখ টাকা লোকসান হতে হবে এসব খামারিদের।

৫৪ মণ ওজনের ষাঁড়ের মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘আমি ২টি বছর খুব যত্ন নিয়ে দেশীয় পদ্ধতিতে আমার সিনবাদকে লালন-পালন করেছি। প্রায় ৩ মাস ধরে প্রতিদিন ২ হাজার টাকার খাবার খাওয়াচ্ছি। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে নিউজ প্রচার ও প্রকাশিত হওয়ার পর প্রতিদিন শত শত মানুষ আসলেও বিক্রি করতে পারিনি। ফোনে শুধু দাম বলে বাড়িতে নিতে আসে না। তাই বাধ্য হয়ে বুধবার দুপুরে গাবতুলি হাটে নিতেছি।’

৫১ মণ ওজনের ষাঁড় ভাগ্যরাজের মালিক ইতি আক্তার বলেন, এত বেশি ওজনের ষাঁড় হাটে নিতে কষ্ট বেশি। ফেসবুক ইন্টারনেটে বিখ্যাত হলেও আমরা এখনও ষাঁড়টি বিক্রি করতে পারলাম না। অথচ ঈদের সময় মাত্র ৫ দিন বাকি আছে।

সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিসের ভেটেনারি সার্জন ডা. মো. সেলিম জাহান বলেন, ইউটিউবে সার্চ দেন দেখবেন সব সাটুরিয়া উপজেলার বড় বড় ষাঁড়ের নিউজ। ৫৪ মণ ও ৫১ মণ ওজন ছাড়াও সাটুরিয়াতে ৭-৮টি ষাঁড় রয়েছে। বৃহস্পতিবার মানুষ ছুটিতে আসলে বেশি ওজনের ষাঁড় বিক্রি হয়ে যাবে।

মানিকগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিকগঞ্জে চলতি বছর  ৪৩ হাজার ৩৩৭টি গরু মোটাতাজাকরণ করা হয়েছে। এর মধ্যে বেশি ওজনের আছে ৫০টির মত। বেশি ওজনের ষাঁড়গুলোর দাম ২০ লাখ, ২২ লাখ টাকা চাওয়া হচ্ছে। মিডিয়া এবং আমাদের সর্বোচ্চ প্রচারের পরও হয়ত বেশি দামের জন্য এসব ষাঁড় বিক্রি হচ্ছে না। তবে ঈদের আগে বেশি ওজনের ষাঁড়ের সঙ্গে সকল পশুই বিক্রি হবে আশা করছি।