জিম্বাবুয়ের সর্বনাশে কপাল খুলল নাইজেরিয়ার

নিষেধাজ্ঞা থাকায় ২০২০ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জিম্বাবুয়ের খেলা নিয়ে সংশয় ছিল। অবশেষে সেই শঙ্কা সত্যি হলো। আগামী বছর অস্ট্রেলিয়ায় নির্ধারিত (১৮ অক্টোবর থেকে ১৫ নভেম্বর, ২০২০) টুর্নামেন্টে অংশ নেওয়ার সুযোগ কেড়ে নেওয়া হলো জিম্বাবুয়ের। মঙ্গলবার আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে এই ঘোষণা দিয়েছে। আর জিম্বাবুয়ের এই সর্বনাশে কপাল খুলেছে নাইজেরিয়ার। ইতিহাসে প্রথমবার দেশটি ক্রিকেটের কোনো মূল ইভেন্টের বাছাইপর্ব খেলবে। একই ভাবে নারীদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব থেকেও কাটা পড়েছে জিম্বাবুয়ের নাম। সেখানে তাদের বদলি হিসেবে ঢুকেছে নামিবিয়া। তারাও প্রথমবার আইসিসির মূল টুর্নামেন্টের বাছাইপর্ব খেলবে। তাই এক জিম্বাবুয়ের সর্বনাশে কপাল খুলল নাইজেরিয়া ও নামিবিয়ার।

জিম্বাবুয়ে না থাকায় বাছাইপর্বের ১৪তম দলের জায়গা পূরণ করবে নাইজেরিয়া। ১১ অক্টোবর থেকে সংযুক্ত আরব আমিরাতে শুরু হতে যাওয়া টুর্নামেন্টে আফ্রিকান দল হিসেবে নামিবিয়া ও কেনিয়ার পর নাইজেরিয়া তৃতীয়। আফ্রিকান অঞ্চলের বাছাইয়ের চূড়ান্তপর্বে তৃতীয় হয়েছিল নাইজেরিয়া। র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকায় জিম্বাবুয়ে বাছাইপর্বে সরাসরি জায়গা পায়। তাদের পরে সুযোগ মেলে কেনিয়া ও নামিবিয়ার। কিন্তু এখন জিম্বাবুয়ে বাদ পড়ায় আফ্রিকা অঞ্চল থেকে কেনিয়া, নামিবিয়ার পর কোয়ালিফায়ার ফাইনাল জেতা তৃতীয় সেরা দল হিসেবে বাছাইপর্বে ঢুকে গেল নাইজেরিয়া। তাদের নিয়ে বাছাইপর্বের বাকি দলগুলো হলোÑ আমিরাত, হংকং, আয়ারল্যান্ড, জার্সি, কেনিয়া, নামিবিয়া, নেদারল্যান্ডস, ওমান, পাপুয়া নিউ গিনি, স্কটল্যান্ড, সিঙ্গাপুর ও যুক্তরাষ্ট্র জোন থেকে দুই দল যারা এখনো নির্দিষ্ট হয়নি। এখান থেকে শীর্ষ ছয় দল ২০২০ টি-টোয়েন্টিতে অংশ নেবে।

এদিকে নারীদের টি-টোয়েন্টিতে আফ্রিকা অঞ্চল থেকে জিম্বাবুয়ের পর দ্বিতীয় হয়ে কোয়ালিফায়ার শেষ করেছিল নামিবিয়ার মেয়েরা। নাইজেরিয়ার মতো তাদেরও ভাগ্য খুলে গেছে জিম্বাবুয়ে বাদ পড়ায়। এ মাসের শেষদিকে স্কটল্যান্ডে অনুষ্ঠিতব্য বাছাইপর্বে স্বাগতিক দল, বাংলাদেশ, আয়ারল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, পাপুয়া নিউ গিনি,

থাইল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে লড়বে নামিবিয়া। এখান থেকে দুই দল সুযোগ পাবে টি-টোয়েন্টি ওমেনস বিশ্বকাপের মূল পর্বে। এদিকে আরও একটি ক্ষতি হয়েছে জিম্বাবুয়ের। মেয়েদের বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব আয়োজনের কথা ছিল তাদের। কিন্তু এখন সে সম্ভাবনাও শেষ।

জিম্বাবুয়ের বাদ পড়ায় বিশ্বকাপের মূল পর্বে একটি সহযোগী দলের সুযোগ পাওয়াটা এখন পাক্কা। কারণ টি-টোয়েন্টি র‌্যাংকিংয়ের শীর্ষ ১০ দল এমনিতেই মূল পর্বে খেলবে। এছাড়া টি-টোয়েন্টি স্ট্যাটাস পাওয়া স্কটল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, হংকং, ওমান, আয়ারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত সবাই যদি মূল পর্বের টিকিট পায়ও, ষষ্ঠ দল হিসেবে টি-টোয়েন্টি স্ট্যাটাস না পাওয়াদের মধ্য থেকে এক দল সুযোগ পাচ্ছেই। সেক্ষেত্রে পাপুয়া নিউ গিনি, কেনিয়া, নামিবিয়া, নাইজেরিয়া, জার্সি, সিঙ্গাপুর অথবা যুক্তরাষ্ট্র অঞ্চলের দু’দলের যে কোনো একটি প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপে খেলার ইতিহাস গড়তে যাচ্ছে।

বাছাইপর্ব থেকে উঠে আসা ছয় দল যোগ দেবে মূলপর্বের প্রথম রাউন্ডে। বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কা মিলিয়ে মোট আট দল দুই গ্রুপে ভাগ হয়ে এই পর্বে লড়বে। সেখান থেকে গ্রুপ শীর্ষে থাকা দুই দলকে নিয়ে হবে ১০ দলের মূল পর্ব। তাতে সহযোগী এক দলের প্রথম পর্বে তিন ম্যাচ নিশ্চিত।

২০০২ থেকে আইসিসির সহযোগী সদস্য নাইজেরিয়া। তবে কোনোবারই ক্রিকেট নিয়ন্ত্রক সংস্থার বিভাগীয় প্রতিযোগিতার বৈতরণী পার করতে পারেনি। কিন্তু এ বছর দুটি সুখবর এলো ফুটবলের দেশ নাইজেরিয়ার ক্রিকেটাঙ্গনে। গত মার্চে নাইজেরিয়া অনূর্ধ্ব-১৯ দল প্রথমবারের মতো যুব ক্রিকেট বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে। এবার ভাগ্যের ফেরে নাইজেরিয়া মূল ক্রিকেট দল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলার হাতছানি পাচ্ছে।