সিলেটে পশুর হাট জমেছে

দুদিন পর ঈদুল আজহা। এরই মধ্যে কেনাবেচায় জমে উঠেছে নগরী ও আশপাশের কোরবানির পশুর হাট। গভীর রাত পর্যন্ত হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতার উপচেপড়া ভিড় দেখা যাচ্ছে। হাটের শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসন।

নগরীর সবচেয়ে বড় পশুর হাট কাজিরবাজার। সিলেট ছাড়াও দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে পাইকাররা অসংখ্য গরু নিয়ে এসেছেন এ হাটে। এখানে পাইকাররা দাম বেশি হাঁকাচ্ছেন বলে দাবি ক্রেতাদের। এ কারণে অনেকে দাম কমার অপেক্ষায় আছেন। ক্রেতা জাকির আহমদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মাঝারি আকারের একটি গরু পছন্দ হয়েছে। কিন্তু বিক্রেতা দাম চাচ্ছেন ৬০ হাজার টাকা। আশা করছি, এ রকম একটি গরু ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকায় কিনতে পারব।’ হাটের ব্যবস্থাপক শাহাদাত হোসেন লুলন জানান, প্রতিকূল আবহাওয়ার কথা চিন্তা করে বাজারে সে রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। নতুন কয়েকটি শেড তৈরি করা হয়েছে। বাজারে পর্যাপ্ত গরু এসেছে। প্রচুর ক্রেতাও আসছেন। তবে ঈদের আগের দুদিন পুরোদমে বিকিকিনি হবে। নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে পুরো বাজারকে সিসি ক্যামেরার আওতায় রাখা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সদর উপজেলার শিবের বাজারে বসেছে পশুর হাট। নগরীর অনেকে সেখানে গরু কিনতে যাচ্ছেন। এ হাটে দেশি গরুই বেশি। শিবের বাজার ব্যবসায়ী সংস্থার সাধারণ সম্পাদক কামরান আহমদ জানান, হাটে দেশি ছোট ও মাঝারি আকারের গরু বেশি। এগুলোর চাহিদাও বেশি। গরুর দাম অনেকটা স্থিতিশীল রয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বাজারে গরুর কোনো অভাব নেই।’

সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এরই মধ্যে একটি পশুর হাট ইজারা দেওয়া হয়েছে। টিলাগড়ে বসেছে এ হাট। আরও হাট বসানোর অনুমোদন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তবে নগরীর বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালীদের ছত্রচ্ছায়ায় অবৈধ পশুর হাট বসানোর তোড়জোড়ও চলছে। এরই মধ্যে লাক্কাতুরা, চৌকিদেখি ও বালুচরে অবৈধ হাট বসেছে।

সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের (এসএমপি) অতিরিক্ত উপকমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুসা জানান, বড় ধরনের আর্থিক লেনদেনের ক্ষেত্রে পুলিশ সহায়তা করছে। প্রতিটি হাটে জাল নোট শনাক্তকরণ মেশিন বসানো হয়েছে। হাটের ইজারাদারদের বলে দেওয়া হয়েছে, কোনোভাবেই এক হাটের গরু জোর করে অন্য হাটে নেওয়া যাবে না।