জাতিসংঘ ঘোষিত পঁচিশতম আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস ছিল শুক্রবার। এ উপলক্ষে ছাত্র সমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে বাংলাদেশ আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ। আদিবাসী ভাষা চর্চা ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় অনুষ্ঠিত হয়েছে বর্ণিল আয়োজন। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক অধ্যাপক ড. সৌরভ শিকদার। সংহতি ছাত্র সমাবেশে বক্তব্য রাখেন নাট্যব্যক্তিত্ব মামুনুর রশীদ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জীব দ্রং, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক জোবাইদা নাসরিন কণা, মুজাহিদুল ইসলাম নয়নসহ বিভিন্ন প্রগতিশীল ছাত্র সংগঠনের নেতৃবৃন্দ। স্বাগত বক্তব্য দেন আদিবাসী ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক বাদল হাজং।
আলোচনা পর্বের পর নাচের মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। মঞ্চে আসে গারো সম্প্রদায়ের পাঁচ তরুণ ও পাঁচ তরুণী। গারো ভাষার গানে যুগল নৃত্যটি মুগ্ধতা ছড়ায় অনুষ্ঠানে। মান্দির নাচের ছন্দে সুস্মিতা রেমা ও তার দল অনুষ্ঠানকে রাঙিয়ে তোলে। এরপর সংগীত পরিবেশনে অংশ নেয় চারটি সংগীতদল। পাঁচ নারী শিল্পীর গড়া দল এফ মাইনর শুনিয়েছে মারমা, ত্রিপুরা, গারো ও তঞ্চঙ্গ্যা ভাষার চারটি গান। এসব গানে উঠে এসেছে পাহাড়ি জীবনের কথা থেকে প্রবারণা পূর্ণিমার কথা। পিংকি চিড়ানের কণ্ঠসংগীতের সঙ্গে কাহন, গিটারসহ বাদ্যযন্ত্র পরিবেশ করেন নাদিয়া রিছিল, গ্লোরিয়া মান্দা, এর্কিড প্রমুখ।
এরপর ছিল ব্যান্ডদল মাদলের পরিবেশন। প্রথমে তারা গেয়ে শোনায় ‘তবুও পীরেন প্রাণ দিয়েছে’ গানটি। দলটির দ্বিতীয় গানের শিরোনাম ছিলÑ পুতুল নাচের পুতুল আমি/যেমন চাইছে তেমনি দিচ্ছি সাড়া। দলটির লিড গিটারে ছিলেন জেমসন আমলাই, বেজ গিটার বাজিয়েছেন অন্তর স্কু, মাদল বাজিয়েছেন হরেন্দ্রনাথ সিং এবং কাহনে সঙ্গত করেন অ্যান্তনি রেমা। রেমিনিসেন্স নামের দলটি পরিবেশন করে করে চাকমা ভাষার গান ‘চম্পক নগর’, ‘আজার বজর দরি’ ও ‘মোর সোনার দেচ্চান’ শীর্ষক তিনটি গান।