গাজীপুর মহানগরীতে প্রায় ৪০ লাখ লোকের বসবাস। সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এ নগরীর লাখ লাখ মানুষ থাকে কর্মব্যস্ত। কর্মব্যস্ত এসব মানুষের মধ্যে নিম্ন ও মধ্যবিত্তদের বিভিন্ন দিবস উপলক্ষে ছুটির দিনে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোর পর্যাপ্ত বিনোদনকেন্দ্র নেই নগরীতে। তাদের চিত্ত-বিনোদনের ভরসা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক ও ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান (ন্যাশনাল পার্ক)। ছুটির দিনগুলোতে তারা সপরিবারে বা বন্ধুবান্ধব নিয়ে ছুটে যায় এসব স্থানে।
গাজীপুরের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্ক ও ভাওয়াল জাতীয় উদ্যানে ছুটির দিন ছাড়াও প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার লোকজন ছুটে আসে। বিশেষ করে নয়নাভিরাম সবুজ প্রকৃতির টানে সারা দেশ থেকেই মানুষ ছুটে আসে এখানে।
স্থানীয় একটি পোশাক কারখানার কর্মকর্তা ইকবাল হাসান বলেন, ‘২০ বছর ধরে গাজীপুর শহরে থাকি। কিন্তু আমাদের সন্তানদের জন্য নেই কোনো শিশুপার্ক। ঘুরে বেড়ানোর জন্য নেই কোনো উপযুক্ত স্থান। শহরের স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশাল রাজবাড়ি মাঠ থাকলেও সেখানে সারা বছর ধরে থাকে নানা অনুষ্ঠান। প্রায় অর্ধেক মাঠ থাকে নানা অনুষ্ঠান আয়োজকদের দখলে। তবে গাজীপুরে ধনী ও বিত্তশালীদের জন্য রয়েছে শত শত কটেজ ও রিসোর্ট। এসব রিসোর্টে একটি রাত যাপন করতে একজনের খরচ পড়ে ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে। এসব রিসোর্টে শুধু দিনে ঘুরে বেড়ানো, খাওয়া ও সুইমিংপুলে গোসল করতে খরচ করতে হয় জনপ্রতি দুই থেকে তিন হাজার টাকা। কিন্তু আমাদের সন্তানদের নিয়ে ঘুরে বেড়ানোরও একটি ভালো সুন্দর জায়গা খুঁজে পাই না এই নগরীতে।’
চান্দনা চৌরাস্তা এলাকার ব্যবসায়ী আমজাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা গাজীপুরের স্থায়ী বাসিন্দা। গাজীপুর গ্রাম থেকে খুব দ্রুতই শহরে পরিণত হয়েছে। কিন্তু বিশাল এ নগরীতে শিশুদের জন্য পার্ক বা কোনো বিনোদনকেন্দ্র নেই। সকাল-বিকেল ঘুরে বেড়াতে বা আড্ডা দিতে নেই কোনো খোলা প্রান্তর, বসার বেঞ্চ। সকাল-বিকেল হাঁটার জন্যও কোনো ব্যবস্থা নেই এলাকাবাসীর জন্য। তাই বাধ্য হয়ে ছেলেমেয়েদের আবদার রক্ষা করতে তাদের ঢাকার দিকে নিয়ে যাই। আর নিজেরা বাড়ির আশপাশেই ঘুরে বেড়াই।’ স্কুলশিক্ষক আবু বকর সিদ্দিক জানান, নগরীতে শিশুদের মানসিক ও শারীরিক বিকাশের জন্য খেলার মাঠ, শিশুপার্ক ও শিশুতোষ বিনোদনকেন্দ্র নেই। তাদের সন্তানদের নিয়ে অনেকে নগরীর আশপাশে কানাইয়া, নরুন, তিতারকুল, ইসলামপুর ভাঙ্গা ব্রিজ, হানকাটা ব্রিজ, বেলাই বিল, তুরাগ নদী ও খালের ধারে নিয়ে যান। বর্ষা মৌসুমে নদী ও খালগুলো পানিতে পরিপূর্ণ থাকায় সেখানে ছোট ছোট নৌকা ও ট্রলার নিয়ে তারা ঘুরে বেড়ায়। বর্ষা শেষে বিভিন্ন কলকারখানার দূষিত পানি নদীতে গিয়ে মিশে ওই পানি দূষিত হয়ে যায়। তখন দুর্গন্ধে নদীর কাছেও যাওয়া যায় না। আর গাজীপুরের রিসোর্টগুলো ব্যয়বহুল হওয়ায় স্বল্প আয়ের সাধারণ মানুষ সেখানে যেতে পারে না।
এ বিষয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গাজীপুর একটি নতুন সিটি করপোরেশন। এটিকে পরিকল্পিত নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। নগরীর সর্বসাধারণের জন্য পরিকল্পিতভাবে প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে খেলার মাঠ ও শিশুপার্ক গড়ে তোলা হবে। সরকারি পুকুর ও জলাশয়গুলো সংরক্ষণ করে এর চারপাশে গাছ লাগানো হবে এবং ওয়াকওয়ে (হাঁটার পথ) নির্মাণ করা হবে, যাতে সাধারণ মানুষ সবুজ ও প্রাকৃতিক পরিবেশে পরিবার-পরিজন নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে ঘুরে বেড়াতে পারেন; শিশুরা খেলাধুলা করতে পারে।’