থানাহাজতে ধর্ষণের ঘটনায় ওসিসহ ৫ পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা

খুলনার জিআরপি থানাহাজতে তিন সন্তানের মাকে (৩০) গণধর্ষণের ঘটনায় থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) উছমান গণি পাঠানসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদী হয়ে শুক্রবার রাতে জিআরপি থানায় মামলাটি দায়ের করেন।

ওই ঘটনার তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া সার্কেলের সহকারী সুপার (এএসপি) ফিরোজ আহমেদ মামলা হওয়ার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ফিরোজ আহমেদ বলেন, জিআরপি থানায় গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ওসি উছমান গণিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পুলিশ  হেফাজতে নির্যাতন ও হত্যা নিবারণ আইনে মামলা হয়েছে।

এ মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারী নিজেই। তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে সঠিক তদন্তের স্বার্থে সময় আরও বাড়তে পারে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্যাতনের শিকার নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কমিটি। জিজ্ঞাসাবাদের পরেই আদালতের নির্দেশে পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়।

ধর্ষণের ঘটনায় গত মঙ্গলবার কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদসহ তিন সদস্যের কমিটি তদন্তকাজ শুরু করে। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন- পরিদর্শক শ ম কামাল হোসেইন ও মো. বাহারুল ইসলাম।

উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে তিন সন্তানের মা এক নারীকে (৩০) আটক করে খুলনা জিআরপি থানা পুলিশ। ওই নারীর অভিযোগ, মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ দিয়ে তাকে আটক করা হয়।

ওই দিন রাতে থানাহাজতে ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্য তাকে মারধর ও ধর্ষণ করে। পরদিন তাকে পাঁচ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।

গত রবিবার ওই নারী খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামানের আদালতে তাকে মারধর ও গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন।

আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। সোমবার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হলেও রিপোর্ট এখনো তৈরি হয়নি।