অধিকার হারানোর বেদনা নিয়ে ঈদ কাটাচ্ছে কাশ্মীরিরা। মাত্র কয়েকটি জায়গায় ঈদের নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। উৎসর্গময় ঈদুল আজহার আনন্দ ত্যাগ নিয়েই ঈদের নামাজ পড়েছেন তারা। নামাজকে ঘিরে ছিল কড়া নিরাপত্তা পাহারা।
এনডিটিভি জানায়, শনিবার কারফিউ কিছুটা শিথিল করা হলেও রবিবার ফের কারফিউ জারি হওয়ায় ঈদের দিন জম্মু-কাশ্মীরের পথঘাট থমথমে, নির্জন ও নীরবতায় আচ্ছন্ন।
বিক্ষোভ সৃষ্টির আশঙ্কায় শ্রীনগরের বেশির ভাগ মসজিদে ঈদের নামাজ অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে আশপাশের ছোট কয়েকটি মসজিদে ঈদের নামাজে যেতে পেরেছেন মুসলিমরা।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গৃহবন্দি থাকা সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লাহ ও মেহবুবা মুফতিসহ বেশ কয়েকজন নেতাকে স্থানীয় মসজিদে নামাজের অনুমতি দেওয়া হয়েছে ।
কড়া নিরাপত্তায় মানুষ ঘর থেকে বের না হলেও স্থানীয় প্রশাসন দাবি করেছে, পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ আছে। ঈদের জামাতের ছবি প্রকাশ করেছে তারা। প্রচুর মানুষ ঘর থেকে বের হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে, স্বাচ্ছন্দ্যের সঙ্গে মানুষ ঘোরাফেরা করছে।
গত সোমবার সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলের মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া হয়। এর মাধ্যমে অঞ্চলটি কার্যত পুরোপুরি দখলে নিয়ে নিল ভারত।
ইতিহাসের সবচেয়ে কঠোর সামরিক পরিস্থিতি জারি করা হয়েছে সেখানে। মোবাইল নেটওয়ার্ক, ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
গত এক সপ্তাহ ধরে পুরো পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে অঞ্চলটিকে। সাবেক দুই মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি ও ওমর আবদুল্লাহসহ ৪০০ স্থানীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে ভারত সরকার।
এ দিকে রাজ্যসভার এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ফুঁসছে অঞ্চলটির জনগণ। কারফিউ ভেঙে এরই মধ্যে রাস্তায় নামা শুরু করেছে মানুষ। মঙ্গলবার রাত থেকে শ্রীনগরের বেশ কিছু জায়গা নিরাপত্তা বাহিনীর সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।