ভারতীয় বার্তা সংস্থা এএনআই সোমবার টুইটারে একসারি ছবি শেয়ার করে। কাশ্মীরের রাজধানী শ্রীনগরের উল্লেখ করে সেখানে বলা হয়, ঈদের দিন শহরের নানান প্রান্তের মহল্লার মসজিদে নামাজ আদায় করছেন বাসিন্দারা।
এই ছবি দেখে মনে হতে পারে ভারত শাসিত অঞ্চলটির পরিস্থিতি স্বাভাবিক। কিন্তু এটাও মনে রাখতে হবে ওই সময় জম্মু ও কাশ্মীরে কারফিউ চলমান ছিল। ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিলজনিত সম্ভাব্য প্রতিরোধ ঠেকাতে সকল যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিল বিচ্ছিন্ন।
এদিকে একই ছবি প্রকাশ করে ইন্ডিয়া টিভি। সেখানেও বলা হয় ছবিগুলো শ্রীনগর থেকে তোলা।
কিন্তু অন্য তথ্য জানিয়ে সংবাদ প্রকাশ করে দেশটির আল্ট নিউজ। আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা এএফপি’র একজন সাংবাদিকের বরাতে তারা জানায়, ছবিতে প্রদর্শিত মসজিদ কোনোভাবেই শ্রীনগরে নয়। এগুলো জম্মু থেকে তোলা।
একই ছবি রিটুইট করে হিন্দুস্তান টাইমসের সাংবাদিক উযায়ের হাসান রিজভি লেখেন, একটা জম্মু শহর, শ্রীনগর নয়। এএনআই দাবি করছে শ্রীনগরের স্থানীয় মসজিদে ঈদের নামাজের ছবি এগুলো। কিন্তু এটি জম্মু শহরের বাথিন্ডা এলাকার মক্কা মসজিদ।
বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান চালায় আল্ট নিউজ। তারা মক্কা মসজিদের সঙ্গে এএনআই সরবরাহ করা ছবির মিল পান। গুগল স্ট্রিট ভিউ থেকে মসজিদের ছবি সংগ্রহ করে সংবাদের সঙ্গেও জুড়ে দেয়। এ ছাড়া এএনআই প্রকাশিত ছবি ও মক্কা মসজিদের পুরোনো একটি ছবি তুলনা করে হুবহু মিল পায়। সেখানে বলা হয়- দুই ছবির মসজিদের সামনের খিলান ও কলাম একই, ভবনের সামনের বাম পাশে দুটি জানালা অভিন্ন।
এ ছাড়া এএনআই ও ইন্ডিয়া টিভির ছবিতে ভবনের ডান দিকে নির্মাণাধীন একটি অংশ দেখা যায়। ইউটিউবে পাওয়া মক্কা মসজিদের সাম্প্রতিক ভিডিওতে ওই অংশও দৃশ্যমান। যা হুবহু একই।
এভাবে ভারতের অন্যতম বার্তা সংস্থা এবং সংবাদমাধ্যম জম্মু ও কাশ্মীরের চলমান অবস্থা নিয়ে ভুল তথ্য সরবরাহ করে। বস্তুত, শ্রীনগরের ঈদের উৎসবের কোনো আমেজ ছিলো না। যা উঠে এসেছে বিবিসিসহ একাধিক সংবাদমাধ্যমে।
আল্ট নিউজ আরও জানান, ওই এক ছবিগুলো ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকেও টুইট করা হয়। তবে সেখানে নির্দিষ্ট শহর বা স্থান উল্লেখ না করে বলা হয় জম্মু ও কাশ্মীরের ছবি। আরও বলা হয়, সবাই মিষ্টি ভাগাভাগি করে খাচ্ছে ও তাদের মুখে হাসি।