রাজশাহী শহরে সৃষ্ট প্রতিদিনের প্রায় সাড়ে তিন মেট্রিক টন গৃহস্থালি বর্জ্য দূষিত করছে নগরীর আশপাশের পরিবেশ। সিটি করপোরেশন এখনো সনাতন পদ্ধতিতে বর্জ্য অপসারণ করে ফেলছে ভাগাড়ে। প্রতিষ্ঠার পর থেকেই একের পর এক এলাকার জমিতে তৈরি করা হচ্ছে ভাগাড়। নির্দিষ্ট ভাগার না থাকা ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন না হওয়ায় নষ্ট হচ্ছে জমি, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ।
সিটি করপোরেশন হিসেবে রাজশাহীর যাত্রা শুরু ১৯৯০ সালে। তার পর থেকে নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে বারবারই ভাবতে হয়েছে কর্র্তৃপক্ষকে। দিন যত যাচ্ছে নগরীতে মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, সেই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে ময়লা-আবর্জনা। প্রতিদিনকার এসব ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করে সিটি করপোরেশন ফেলছে সিটি হাট এলাকার ভাগাড়ে। এর আগে কয়েক দফা বদল হয়েছে ভাগাড়ের স্থান। শুরুতে রাজশাহী নিউ মার্কেট এলাকায় ফেলা হতো প্রতিদিনের আবর্জনা। এরপর রেলভবন সংলগ্ন এলাকায় বানানো হয় ভাগাড়। তারপর ময়লা ফেলার জায়গা করা হয় নগরীর বড়বনগ্রাম এলাকায়। আর এখন ফেলা হচ্ছে সিটি হাট এলাকায়। এখন সেখানেই প্রতিদিনকার শহরের জমে থাকা ময়লা ফেলা হচ্ছে। এতে ভাগাড়ের আশপাশে চলাচলকারীদের অসহনীয় দুর্গন্ধ সহ্য করতে হচ্ছে প্রতিনিয়ত।
রাজশাহী সিটি করপোরেশনের প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা শেখ মো. মামুন বলেন, নগরীর বাড়ি বাড়ি যেসব ময়লা হয় সেগুলো তারা বাড়ির পাশে জমিয়ে রাখে। প্রতিদিন বিকেল থেকে সেগুলো ভ্যানে করে সংগ্রহ করে নির্ধারিত স্থানে রাখা হয়। আর রাতে শুরু হয় এগুলো ভাগাড়ে ফেলার কাজ। ট্রাক ও ট্রাক্টরে করে শহরে প্রতিদিন প্রায় সাড়ে ৩০০ মেট্রিক টন বর্জ্য অপসারণ করে ভাগাড়ে ফেলা হয়। তিনি বলেন, আপাতত সিটি হাটের ভাগাড়েই সব ময়লা ফেলা হয়।
বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির রাজশাহীর ব্যবস্থাপক তন্ময় সান্যাল বলেন, বিষয়টি নিয়ে আমরাও অনেকবার বলেছি। এই শহর যেখানে নির্মল বাতাসের জন্য বিশ্বে প্রশংসিত হয়েছে সেখানে এমন আবর্জনার ভাগাড় থাকা উচিত নয়। ভাগাড় অবশ্যই বাউন্ডারি দিয়ে ঘেরা থাকা উচিত। সেই সঙ্গে এটি লোকালয় থেকে দূরে থাকা দরকার।
এ বিষয়ে সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী আশরাফুল হক বলেন, এসব ময়লা-আবর্জনা সংগ্রহ করার পর নিরাপদভাবে সেগুলোকে বিনষ্ট করার আধুনিক পদ্ধতির সঙ্গে আমরা যুক্ত হতে পারিনি। এই কাজটি সনাতন পদ্ধতিতেই চলছে। প্রাথমিকভাবে শহরটা পরিষ্কার হচ্ছে ঠিকই। কিন্তু এর পরিমাণ এত বেশি যে, সেগুলো যেখানে ফেলা হচ্ছে সেই ভাগাড় তো ভরে যাচ্ছে। এক, দুই কিংবা চার বছরে তো আর ধারণক্ষমতা থাকছে না। এভাবে আমরা যদি একটার পর একটা ভাগাড় তৈরি করি তাহলে তো ভূমি কমে যাবে। এমনিতেই শহরে জমির পরিমাণ কমছে। অনেক দেশেই এসব আবর্জনার আধুনিক ব্যবস্থাপনা চালু করেছে। আমাদেরও সেটাই করতে হবে।
তিনি বলেন, ময়লা অপসারণের কাজে নিয়োজিত শ্রমিকরাও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে। তারা সারাদিন ময়লা-আবর্জনা ভাগাড় পর্যন্ত নিয়ে কাজ করছে এটি তাদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিষয়টি নিয়ে আমরাও ভাবছি। স্থানীয় সরকার বিভাগ এটি নিয়ে কাজ করছে।