আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে ছাত্রলীগ নেতার ছাগল ছিনতাইয়ের চেষ্টা

চাঁদাবাজির উদ্দেশ্যে জোরপূর্বক ২১২টি ছাগল ছিনতাই করা হয়। এ ঘটনায় জড়িত থাকার পাশাপাশি চাঁদাবাজির অভিযোগে নয়জনকে আসামি করে রাজধানীর মোহাম্মদপুর থানায় দুটি মামলা হয়েছে।

এতে মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগ সভাপতি মুজাহিদ আজমী তান্নাসহ নয়জনকে আসামি করা হয়েছে। তারা নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দেয়।

মোহাম্মদপুর থানার ওসি গণেশ গোপাল বিশ্বাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, চাঁদার দাবিতে জিম্মি করে ছাগল ছিনতাইয়ের চেষ্টার ঘটনায় দুটি মামলা হয়েছে। এর মধ্যে র‌্যাব-২ এর পক্ষ থেকে একটি ও ছাগলের মালিক সাইফুল ইসলাম বাদী হয়ে অপর একটি মামলা করেন। এই মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, ১১ আগস্ট ট্রাকযোগে যশোরের বাবুবাজার ও ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ এলাকা থেকে  কয়েকজন পশু ব্যাপারী মোট ২১২টি ছাগল নিয়ে ঢাকায় আসেন। ছাগলসহ ট্রাকটি মোহাম্মদপুরের বাবর রোডের জহুরী মহল্লা এলাকায় প্রবেশ করলে ব্যবসায়ীদের ট্রাক আটকে চাঁদা দাবি করে স্থানীয় ছাত্রলীগের কয়েজন কর্মী। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যাপারীদের ট্রাক থেকে ছাগলগুলো নামিয়ে একটি ক্লাব ঘরে আটকে রাখা হয়। এ ছাড়া ছাগলগুলোর মালিক সাইফুল ইসলাম, শেখ সোলেমান, বাবু খান, ফারুক বিশ্বাস, নুরুজ্জামান ও মোহাম্মদ মাসুদ মণ্ডলকে আটকে রাখা হয়।

মোহাম্মদপুর থানার তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ছাত্রলীগ পরিচয় দিয়ে এজাহারভুক্ত আসামিরা ব্যবসায়ীদের কাছে চাঁদা দাবি করেছিল। আর এই খবর পেয়ে দ্রুত একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে র‌্যাব-২ এর একটি টহল দল ঘটনাস্থলে গিয়ে জিম্মিদশা থেকে ব্যবসায়ীদের উদ্ধার করেন। এ সময় উদ্ধার হওয়া ব্যবসায়ীদের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ইয়াসির আরাফাত, জাহিদুল ইসলাম ও রায়হান নামে তিনজনকে আটক করে।

পরে তারা জিজ্ঞাসাবাদে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে জানায়, তারা সবাই মোহাম্মদপুর থানা ছাত্রলীগ সভাপতি মুজাহিদ আজমী তান্নার সহযোগী। তান্নার নির্দেশেই তারা চাঁদার জন্য ব্যবসায়ীসহ পশুবাহী (ছাগল) ট্রাক আটক করেছিল।

র‌্যাবের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযুক্তরা ছিনতাইয়ের সময় লাইসেন্স ছাড়া অবৈধভাবে ওয়াকিটকি ব্যবহার করেছিল। সেই সঙ্গে নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়েছিল।