যুক্তরাজ্যের অধীন জিব্রাল্টারের হাতে থাকা ইরানের ট্যাংকার আটকে যুক্তরাষ্ট্রের আবেদন কাজে আসেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার ট্যাংকারটিকে ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে জিব্রাল্টারের আদালত। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের আবেদনে শেষ মুহূর্তে এসে প্রত্যাশিত মুক্তি আটকে যায় নৌযানটির। এর ফলে ইরানের হাতে আটক যুক্তরাজ্যের পতাকাবাহী ট্যাংকার ফেরতও আটকে যায় বলে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
গত ৪ জুলাই যুক্তরাজ্যের বহিঃস্থ ভূখণ্ডটিতে ‘গ্রেস-১’ নামের তেলের ট্যাংকারটিকে আটক করেন দেশটির রয়্যাল মেরিন কমান্ডোরা। জিব্রাল্টার কর্র্তৃপক্ষের ভাষ্য, ট্যাংকারটি ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সিরিয়ায় তেল বিক্রি করছিল বলে তাদের কাছে সন্দেহ হয়েছে। এ ঘটনার দুই সপ্তাহ পর ১৯ জুলাই ইরানের বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) উপসাগরে ব্রিটেনের পতাকাবাহী ‘স্টেনা ইমপেরো’ নামের ট্যাংকার আটক করে।
গতকাল জিব্রাল্টার কর্র্তৃপক্ষ গ্রেস-১ নামের ট্যাংকারটিকে মুক্তি দেবে বলে মনে করা হচ্ছিল। তবে মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ এটি আটকের ইচ্ছার কথা জানায়। এমন বাস্তবতায় জিব্রাল্টার সরকার জানায়, বিষয়টি অঞ্চলটির সর্বোচ্চ আদালতে গড়াবে। সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বেশ কিছু অভিযোগের ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ গ্রেস-১কে আটকের আবেদন করেছে, যা এখন বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে।’ যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের আবেদনের কারণগুলো নিয়ে আর কোনো
বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি। রয়টার্সের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে বিচার বিভাগ-সংশ্লিষ্ট কারও বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
যুক্তরাজ্য ও ইরানের পক্ষ থেকে জাহাজ পাল্টাপাল্টি ফেরতের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে বলা না হলেও বিভিন্ন মহল মনে করছিল, ইরানের ট্যাংকার ফেরত না দিলে ব্রিটেনের পতাকাবাহী জাহাজ ছাড়া হবে না। জিব্রাল্টার ও ইরানে আটক দুটি ট্যাংকারকে ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যকার বিরোধে ঘুঁটি হিসেবে ভাবা হচ্ছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়নের বড় শক্তিগুলো ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার কূটনৈতিক মতদ্বৈধতার কারণে তাদের ভাগ্য ঝুলে যায়।
যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বিভিন্ন দেশ গত বছর আন্তর্জাতিক একটি চুক্তি থেকে ওয়াশিংটনের সরে আসার সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, পরমাণু কর্মসূচি সীমিত করার মধ্য দিয়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল ইরানের ওপর থেকে। ইরানের তেল রপ্তানি একেবারে বন্ধ করে দিতে ওয়াশিংটন দেশটির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। ইউরোপের দেশগুলো ইরানের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। তবে ২০১১ সাল থেকে সিরিয়ায় তেল বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা বহাল রয়েছে। ‘গ্রেস-১’ ২১ লাখ ব্যারেলের মতো তেল বহন করছিল। একে আটকের নির্দেশ পাওয়ার কথা অস্বীকার করেছে জিব্রাল্টার। তবে কূটনৈতিক কিছু সূত্র জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যকে ট্যাংকারটি আটকের কথা বলেছে যুক্তরাষ্ট্র।
নতুন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের অধীনে ইরান নীতি পরিবর্তন না হওয়ার কথা জানানো যুক্তরাজ্য জোর দিয়ে বলে আসছিল, তারা ট্যাংকার আটকের বিষয়টি নিয়ে সমঝোতা চায়।