ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের মৌসুম সবে শুরু হয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় লিগের দৌড়ে সব দল মাত্র ৯০ মিনিট (১ ম্যাচ) করে খেলেছে। এখনই শিরোপা জয়ীর হিসাব করে ফেলা একদমই বোকামি। কিন্তু লিগের দ্বিতীয় ম্যাচের দিনই এমন এক অবস্থা দাঁড়িয়ে যাচ্ছে যে ম্যানচেস্টার সিটি ধরে রাখতে পারবে কি না তা অনুমান করে ফেলা যায়। আজ লিগের সাত ম্যাচ মাঠে গড়াবে। যার সর্বশেষটিতে লড়বে ম্যানচেস্টার সিটি ও টটেনহ্যাম হটস্পার।
লিগের প্রথম ম্যাচে ৫-০ গোলে ওয়েস্টহ্যামকে হারিয়েছিল সিটি। ওদিকে গতবারের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ রানার্সআপরা ৩-১ গোলে জিতেছিল অ্যাস্টন ভিলার বিপক্ষে। আজ নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে সিটি যদি টটেনহ্যামের কাছে হেরে যায় তবে লিগের উত্তেজনা টিকে থাকবে। অন্যথা হলে অর্থাৎ সিটি জিতে গেলে গার্দিওলার দলকে শিরোপা জয়ে চ্যালেঞ্জ জানানো কঠিন হয়ে পড়বে বাকি জায়ান্টদের জন্য। মানে শুরুর আগেই শেষ হয়ে যেতে পারে প্রিমিয়ার লিগের উত্তেজনা।
গত মৌসুমের শেষদিকে একমাত্র টটেনহ্যামই পেপ গার্দিওলার সিটিকে হারিয়েছিল। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কোয়ার্টার ফাইনাল ড্র-তে একে অপরকে পায় দুই ইংলিশ জায়ান্ট। ওই পর্বের প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ১-০তে সিটিকে হারিয়ে দেয় মরিসিও পোচেত্তিনোর টটেনহ্যাম। ৯ এপ্রিলের ওই ম্যাচের পর আর কোনো দল কোনো প্রতিযোগিতায় সিটিকে হারাতে পারেনি।
মৌসুমের বাকি ৯ ম্যাচের সবকটি জিতেছিল সিটিজেনরা। এর মধ্যে প্রিমিয়ার লিগে একাধারে ১৫ ম্যাচ জিতে শিরোপা জয়ের সাফল্য দেখায়। এ বছর ২৯ জানুয়ারি নিউক্যাসলের বিপক্ষে লিগে সর্বশেষ হেরেছিল সিটি। এরপর থেকে টানা ১৫ ম্যাচ জয়ের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ ফিরতি লেগে টটেনহ্যামকে হারায় গার্দিওলার শিষ্যরা। কিন্তু ৪-৩ গোলে জিতলেও দুই লেগ মিলিয়ে ব্যবধান হয় ৪-৪। অ্যাওয়ে গোলের সুবাদে সেমিফাইনালে চলে যায় স্পার্সরা। এছাড়া এফএ কাপের ফাইনালও জেতে সিটি। ওই ১৭ ম্যাচের সঙ্গে এবারের মৌসুম শুরুর ম্যাচ মিলিয়ে মোট ১৮ ম্যাচ অজেয় গার্দিওলার দল।
টটেনহ্যামের সঙ্গে আজও তাদের জয়রথ যদি অব্যাহত থাকে তাহলেই শিরোপা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জে অনেক এগিয়ে যাবে সিটি। হয়তো বাকিদের শিরোপাস্বপ্ন কঠিনও হয়ে যেতে পারে। আজকের পর সিটির কঠিন প্রতিপক্ষ লিভারপুল। একমাত্র তারাই গতবারের মতো এই মৌসুমেও সিটিকে কঠিন চ্যালেঞ্জ দিতে পারে। কিন্তু অলরেডদের সঙ্গে সিটির লড়াই সেই ৯ নভেম্বর।
এর আগে তাদের প্রতিপক্ষ যথাক্রমে বোর্নমাউথ, ব্রাইটন, নরউইচ, ওয়াটফোর্ড, এভারটন, উলভারহ্যাম্পটন, ক্রিস্টাল প্যালেস, অ্যাস্টন ভিলা ও সাউদাম্পটন। এই দলগুলোর কোনোটাই গার্দিওলার উড়ন্ত সিটিকে শক্ত চ্যালেঞ্জ দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না। অঘটন হলে অবশ্য ভিন্ন কথা। লিভারপুলের মুখোমুখি হওয়ার আগে সবগুলো ম্যাচ জিতে গেলে সিটির পয়েন্ট ও শিরোপা সম্ভাবনা অনেক উঁচুতে গিয়ে ঠেকবে। ওদিকে এই সময়ের মধ্যে লিভারপুলকে অন্যান্য ম্যাচের সঙ্গে ঘরের মাঠে খেলতে হবে আর্সেনাল ও টটেনহ্যামের সঙ্গে আর অ্যাওয়েতে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসির বিপক্ষে। বোঝাই যাচ্ছে, শিরোপা দৌড়ের পথচলা লিভারপুলের জন্য কতটা কঠিন আর সিটির জন্য কতটা সহজ।
তাই প্রিমিয়ার লিগের উত্তেজনা জিইয়ে রাখার দায়িত্ব আজ টটেনহ্যামের ওপর। সিটিকে হারিয়ে দিলেই লিগ জম্পেশ হবে, নয়তো সিটির গতিময় গাড়ি আবারও গতিতে পেছনে ফেলবে সবাইকে।