কোরবানির ঈদের পর এখনো চট্টগ্রাম ফেরেননি নগরী ছেড়ে যাওয়া অনেক মানুষ। সবজির বাজারে ক্রেতাদের চাপ না থাকলেও দাম চড়া। কোরবানির ঈদের আগ থেকেই যে বাড়তি দামে সবজি বিক্রি হচ্ছিল, তা এখনো রয়েছে। তবে মাছ ও মাংসের দাম স্থিতিশীল রয়েছে। ব্যবসায়ীদের দাবি, ঈদে সরবরাহ ঘাটতির কারণে বাড়তি দাম এখনো রয়েছে। অন্যদিকে ক্রেতাদের অভিযোগ, শহরে এখন লোকসংখ্যা কম, চাহিদাও কম। এর মধ্যে সরবরাহ ঘাটতি বলাটা হলো অজুহাত। খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, এসবের পেছনে রিয়াজউদ্দিন বাজারের পাইকাররাই জড়িত।
গতকাল শুক্রবার সকালে নগরীর বক্সিরহাট, ফিরিঙ্গীবাজার, রিয়াজউদ্দিন বাজার ঘুরে দেখা যায়, ঈদের আগের মতো বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে সব সবজি। বাজারে কেজিপ্রতি পটোল বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা। এছাড়া কাঁকরোল ৫০, বেগুন ৬০, পেঁপে ৪০, বরবটি ৬০, ঢেঁড়স ৪০, চিচিঙ্গা ৫০, গাজর ৬০, মিষ্টি কুমড়া ৪০, লাউ ৬০, শিম ৮০, ঝিঙ্গা ৫০, করলা ৬০, কচু ৬০, শসা ৮০, কাঁচামরিচ ১২০ ও টমেটো ৭০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
বক্সিরহাট বাজারের সবজি বিক্রেতা সেলিমুর কোরেশী বলেন, ঈদে বেশিরভাগ আড়ত বন্ধ থাকলেও এখন সব আড়ত খুলেছে। ঈদের দিন থেকে কয়েকজন পাইকার বেশি দামে সবজি বিক্রি করছে, যা এখন সবাই মিলে সিন্ডিকেট করেছে। অথচ আড়তে পর্যাপ্ত সবজি লোড করা। একই কথা বললেন রিয়াজউদ্দিন বাজারে খুচরা সবজি বিক্রেতা লিয়াকত আলী। তিনি জানান, প্রতিটি আড়তে সবজি আছে। কিন্তু বাড়তি দামে পাইকাররা সবজি বিক্রি করছে। তাই তারা বেশি দামে কিনে বেশিতে বিক্রি করছেন।
রিয়াজউদ্দিন বাজারে মা-বাবা ফার্মের স্বত্বাধিকারী ও পাইকার মামুন ইসলাম বলেন, ‘ট্রাক আসতেছে না। সরবরাহ স্বল্পতায় দাম এখনো কমেনি। তার ওপর ঈদের বন্ধে বেশিরভাগ শ্রমিকও বাড়িতে। আর দাম তো আগে থেকেই বাড়তি। এখানে কোনো সিন্ডিকেট নাই।’
নজু মিয়া লেনের বাসিন্দা মো. হাসনাত বলেন, ‘৪০ টাকার নিচে কোনো সবজি নাই। সরবরাহ কম, এটা হলো বেশি দামে বিক্রির পাঁয়তারা। শহরের অধিকাংশ বাসিন্দা বাড়িতে। দোকান ও আড়তে সবজি ভর্তি আছে। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া, পটিয়া, চন্দনাইশ থেকে লোকাল সবজি আসতেছে। সরবরাহ কম হলে এসব সবজি আসছে ক্যামনে?’
এদিকে মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, দেশি রুই ৩০০, ভারতীয় রুই ২২০, মিয়ানমারের রুই ২৭০, কাতলা ৩৭০, কৈ ২০০, তেলাপিয়া ১৩০, পোপা ২৮০, রূপচাঁদা ৫০০, কোরাল ৬৫০, লইট্টা ১০০, পাবদা ৪০০, চিংড়ি ৬৫০, কালাবাউশ ৩০০, সরপুঁটি ৪০০ ও পাঙ্গাস ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
রিয়াজউদ্দিন বাজারের মাছ বিক্রেতা শামসউদ্দিন বলেন, ‘মাছের বাজার দামে ঠা-া। কাপ্তাই লেক থেকে ছোট-বড় সব মাছ আসছে। ইলিশ, লইট্টা, পোপা আসছে সাগর থেকে। সব মিলিয়ে মাছে ভরপুর বাজার। তাই দামও কম।’
বাজারের ক্রেতা মেহেদী হাসান বলেন, ‘সবজির বাজারে গেলে মনে হবে টাকা যেন জলে দিয়ে আসছি। অথচ মাছ-মাংসের দাম নাগালে। ২০০ টাকায় মাছ পাওয়া যাচ্ছে। তেমনি ভালো সাগরের মাছ কিনতে গুনতে হচ্ছে মাত্র ৩০০-৫০০ টাকা। সবজির দামটা খামোখা বাড়িয়ে বিক্রি হচ্ছে।’
এদিকে মাছের দাম যেমন বাড়েনি, তেমনি বাড়েনি মুরগি ও খাসির মাংসের। ফার্মের মুরগি ১৩০ টাকা ও খাসির মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করা হচ্ছে।