খালেদা জিয়ার অবস্থা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে জানাবে বিএনপি

কারাবন্দী বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির বিষয়টি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে তুলে ধরার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি।

শনিবার সন্ধ্যায় গুলশানে দলের চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে এক সংবাদ সম্মেলনে স্থায়ী কমিটির এই সিদ্ধান্তের কথা জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৈঠকে লন্ডন থেকে স্কাইপের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৈঠক শেষে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থায়ী কমিটির এক সদস্য দেশ রূপান্তরকে জানান, বৈঠকে স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বিলুপ্ত ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের বহিষ্কৃত ১২ ছাত্রদল নেতার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়ার জন্য দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের অনুরোধ জানান। জবাবে বিষয়টি তার মাথায় আছে বলে স্থায়ী কমিটির ওই সদস্যকে জানান তারেক রহমান।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য ও তার মুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিকভাবে পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে বিএনপি। যেসব গণতান্ত্রিক দেশ আছে তাদেরকে অবহিত করব এবং যে অন্যায়ভাবে দেশনেত্রীকে আটক করে রাখা হয়েছে সে বিষয়টা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আপনারা জানেন, ঈদের আগে দলের চেয়ারপারসন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জামিনের যে বিষয়টা এসেছিল হাইকোর্টে সেখানে একটা নেতিবাচক আদেশ হওয়ার পর থেকে আমাদের ধারণাটা আরও দৃঢ় হয়েছে যে, এখন বিচার ব্যবস্থা এটা আর স্বাধীনভাবে স্বাভাবিকভাবে কাজ করতে পারছে না। সরকার বিচার ব্যবস্থাকে নিয়ন্ত্রণ করছে।

তিনি বলেন, সে ক্ষেত্রে আইনিভাবে এটা কিছুটা অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে যে, এখানে আমরা ন্যায় বিচার পাব কিনা। আমরা দেশনেত্রীর মুক্তির আন্দোলনকে বেগবান করার জন্য আমাদের বিভাগীয় পর্যায়ের সমাবেশের কর্মসূচি অব্যাহত রাখব। যেহেতু আগস্ট মাসে সরকার কোনো কর্মসূচি নিতে দেয় না সে কারণে আমরা আমাদের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী ১ সেপ্টেম্বর থেকে এই কর্মসূচি আবার শুরু করব। এছাড়া খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে ঈদের আগে চট্টগ্রাম, বরিশাল ও খুলনাতে বিভাগীয় সমাবেশ করেছে বিএনপি।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালনে জেলা-মহানগর-উপজেলা পর্যায়ে র‌্যালি, সভা-সমাবেশ-আলোচনাসভার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। ঢাকায় কেন্দ্রীয়ভাবে র‌্যালি ও পরদিন আলোচনা সভা করা হবে। এরপরেই বেগম জিয়ার মুক্তির দাবিতে বিভাগীয় সমাবেশগুলো আমরা সমাপ্ত করব। এছাড়া আগামী ২৪ আগস্ট হিন্দু সম্প্রদায়ের জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দলের পক্ষ থেকে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সংবর্ধনার আয়োজন করা হবে বলে জানান তিনি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে দলের ভাইস চেয়ারম্যান হারুন আল রশিদের বাড়ি ভেঙে দেয়া ও একজন বিচারপতির গ্রামের বাড়িতে হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে, দেশে আইনশৃঙ্খলা বলতে দেশে কিছু নেই। এভাবেই এখন পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি।

বৈঠকে মহাসচিব ছাড়া উপস্থিত ছিলেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মওদুদ আহমদ, জমিরউদ্দিন সরকার, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।