শারমীন জোহা শশী। ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী। অভিনয় করেছেন সিনেমাতেও। জনপ্রিয় এই অভিনেত্রী সম্প্রতি কথা বললেন দেশ রূপান্তরের সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সুদীপ্ত সাইদ খান।
কেমন আছেন?
আমি ভালো আছি।
এটিএন বাংলায় আপনার অভিনীত ‘সোনাভান’ নাটকটির প্রচার সম্প্রতি শেষ হয়েছে। ১০৪ পর্বে শেষ হয় নাটকটি। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র সোনাভান হওয়ার অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?
এই সিরিয়ালে কাজ করছি প্রায় সাড়ে তিন বছর ধরে। সাড়ে তিন বছর আগে পরিচালক এসএম শাহীন আমাকে ফোন দেন কাজটা করার জন্য। তারপর গল্প পড়ার পর গল্পের প্রেমে পড়ে যাই। ৭১ সালের গল্প। ওই সময়ে ভিশন একটা স্বাধীনচেতা একটা মেয়ে সোনাভান। শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও মেয়েটা অনেক বোল্ড। আমার মনে হয়েছে এ নাটকে কাজ করলে আমি আমার নতুন কিছু দেখাতে পারব। এজন্যই পছন্দ করি। আমরা বগুড়ায় প্রথম লটের কাজ করি। বগুড়ার ভাষাতেই কাজটা হচ্ছে। কাজ শুরুর করার পর দেখলাম এতে নতুন কিছু মজার কিছু ঢুকছে।
নিজের কাজ দেখে নিজে কতটা সন্তুষ্ট?
আমি আসলে কখনোই আমার কাজে সন্তুষ্ট হই না। আমার বোধ হয় আরেকটু সচেতন থাকা দরকার। ওই জায়গা থেকে আমার মনে হয় সোনাভানও আমার মনমতো কাজ করতে পারি নাই। আমার মনে হয়েছে ভাষার জায়গাটা আরেকটু ভালো হতে পারত। ভাষা মানে ডায়ালগের প্রতি আরেকটু কনসাইডার করা দরকার। আমার অ্যাক্টিংয়ের প্রতি আরও যত্নবান হওয়া দরকার। আমরা বেশির ভাগ শিল্পীরা এখানে যেটা ফিল করছি সেটা হচ্ছে বগুড়ার ভাষা। বগুড়ার ভাষা কিন্তু আমরা কেউই ঠিকঠাক মতো পারি না। আমরা এই নাটকটা করতে এসেই এই ভাষাটা শেখার চেষ্টা করেছি। এবং ফ্লুয়েন্টলি বলবার চেষ্টা করেছি। আর সেটা করতে গিয়েই বারবার মনে হয়েছে যে, অ্যাক্টিংটা করব নাকি, ভাষাটায় যত্ন নেব। সেই কারণে আমাদের কিছুটা সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে।
এই ভাষাটা শিখতে কতটা সময় ব্যয় করেছেন, কীভাবে?
ভাষাটা শেখার জন্য আমাদের উচিত ছিল মোটামুটি এক/দেড় মাস সময় দেওয়া, এটাকে নিয়ে রিসার্চ করা বা পড়াশোনা করা একটু আয়ত্ত করা বা একটু প্র্যাকটিস করা, তারপর শুটে যাওয়া। কিন্তু আমরা সেটা করতে পারি নাই সময়ের কারণে। এখন যেভাবে প্রোডাকশনগুলোতে কাজ করি তাতে সময় হয়ে উঠে না। তবে আমরা যখন শুটিং করেছি তখন একজন সব সময় ছিলেন টিচারের মতো। সব সময় ছিলেন যিনি আমার ভাষাটাকে গাইড করেছেন। আমার নানাবাড়ি রংপুরে। সে জন্য রংপুরের ভাষাটা জানি। এ কারণে বগুড়ার ভাষাটা একটু সহজ। আমরা আসলে শুটিং চলাকালীনই ভাষাটা শিখে তখনই ডেলিভারি দিয়েছি। এ জন্য অ্যাক্টিংটা একটু ফল করলেও করতে পারে। তবে এটার জন্য যে সময়টা প্রয়োজন ছিল সেটা আমরা পাইনি। পরিচালকও সেটা স্বীকার করেছেন। এই সাড়ে তিন বছর পর গিয়ে মনে হয়েছে যে আমরা একটু একটু করে ভাষাটা শিখে উঠতে পারছি।
যে কোনো চরিত্রকে কীভাবে আয়ত্ত করেন?
আমার কাছে যখন কোনো চরিত্র আসে তখন আমি সেভাবে নিজেকে গড়ে তোলা চেষ্টা করি। যেমন একটা স্পেশাল চাইল্ডের যদি অ্যাক্টিং করতে হয় সেখানে আমি চেষ্টা করি ডক্টর বা তার আশপাশের মানুষদের সঙ্গে কথা বলে বাচ্চাটাকে দেখে বোঝার চেষ্টা করি। তার হাসি বা অ্যাক্টিভিটিগুলো কী কী। বা ধরুন, ড্রাগ অ্যাডিক্টেড কোনো চরিত্র এলে তাদের কি হয় ড্রাগ না পেলে তাদের কি হয় সেটা নিয়ে রিসার্চ করার চেষ্টা করি। এই সমস্ত চরিত্রগুলো নিয়ে রিসার্চ করতেই হয়। আবার যদি কোনো ন্যাচারাল চরিত্র হয় মানে আমাদের স্বাভাবিক জীবনের কাছাকাছি কোনো চরিত্র, তখন আমি চেষ্টা করি নিজের ভেতরের যে ন্যাচারাল ব্যাপারটা আছে সেটাকেই মেলে ধরতে।
হাজার বছরের টুনিকে আবার কবে নাগাদ রূপালি পর্দায় দেখা যাবে?
আমি জানি না আসলে আবার কবে নাগাদ আমাকে রূপালি পর্দায় দেখা যাবে। ভীষণ ইচ্ছে আছে। হাজার বছরের টুনি আমাকে যে মাত্রায় দাঁড় করিয়েছে আমার ক্যারিয়ারকে যেখানে দাঁড় করিয়েছে সেটা বলার অপেক্ষা। এটা আমি বলব যে একটা হাজার বছর ছবির জন্যই আমি আজকের শশী, একজন কোহিনুর আক্তার সূচন্দার জন্যই আমি আজকের এই অবস্থানে আসতে পেরেছি। ওইটা আমাকে যে সম্মানটা দিয়েছে, আমি কখনোই চাইব না এমন কোনো কাজ করতে যেটার কারণে আমার ওই সম্মানটা নামিয়ে দেয়। তার মানে এই না যে আমি বলছি টুনির মতোই একটা গ্রামের মেয়ের চরিত্র করতে। আমি সব ধরনের চরিত্রেই অভিনয় করতে চাই। ছবি যে ধরনেরই হোক না কেন আমি যে ছবিটা করব সেটা আগে আমার পছন্দ হতে হবে। আগে আমি নিজে নিজে এনশিউর করব যে সেটা মানসম্মত হবে কিনা, তারপরেই আসলে আমি কাজটা করব। আসলে এ রকম চুজি হয়ে ওঠার কারণেই আমার আর সিনেমা করা হয়ে ওঠেনি। তো আমি জানি না, সামনে আমার জন্য কোনো মুভি আমার ঝুড়িতে আছে কিনা, যদি থাকে তাহলে অবশ্যই করব।
শশীর নিত্য নৈমিত্তিক দিনগুলো কীভাবে কাটে?
শুটিং যদি ঢাকার বাইরে থাকে তাহলে খুব সকালে উঠতে হয় আমাদের। সকাল সাতটার ভেতরেই বেরিয়ে যেতে হয়, ইউনিটের গাড়ি বা নিজের গাড়ি যেটাতে করেই হোক সকাল সকাল চলে যেতে হয়। আর যদি রাত ১০টাতেও শুটিং শেষ হয় তো বাসায় ফিরতে ফিরতে রাতের ১২টা একটা বেজে যায়। এরপর তো মেকআপ তোলা, শাওয়ার নেওয়া, খাওয়া-দাওয়া, তারপর ঘুম। ঢাকার ভেতরে শুটিং থাকলে একটু সময় পাওয়া যায়। ৯টা ১০টায় সেটে গেলেও সমস্যা হয় না। রুটিন আবার ওইরকমই ফিরে রাতে ফিরে আসি।
শুটিং না থাকলে রুটিনটা কেমন হয়?
আমার একটা খারাপ অভ্যাস আছে, যেটা একজন আর্টিস্টের মধ্যে থাকা উচিত না- কিন্তু এই দিকটা আমার মধ্যে আছে। সেটা হচ্ছে- আমি খুবই ঘুম কাতুরে। শুটিং না থাকলে ঘুম থেকে উঠে ব্রেকফাস্টের বদলে লাঞ্চ করতে হয়। এটা ঠিক না। আমি মনে করি শুটিং না থাকলেও টাইমলি ওঠা উচিত, এক্সারসাইজ করা উচিত, একটা রুটিনের মধ্যে থাকা উচিত। আর একজন আর্টিস্ট নিয়মের মধ্যে না থাকলে কখনোই ভালো আর্টিস্ট হতে পারে না। তারপরও আমি ঘুমাই (হা হা হা) অবশ্য কখনো কখনো শুটিং না থাকলে সকালেও উঠি।
নানা সময়েই পত্র-পত্রিকায় আপনার বিয়ের খবর আসে। তো সত্যি সত্যিই কবে বিয়ে করবেন?
বিয়ে নিয়ে বলব যে, কিছু জিনিস তো উপরওয়ালা আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছেন কখন কি হবে। তো এটা আসলে আমি আপনি সিদ্ধান্ত নেওয়ার কেউ না। মাঝখানে একবার পরিবার থেকে মানে আব্বু আম্মু আমার বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন কিন্তু তখন আমি রাজি হইনি। পরে একবার আমি রাজি হয়েছি কিন্তু আব্বু আম্মু মনমতো ছেলে পায়নি। আর এখন যেটা হচ্ছে সেটা আমি আরও কিছুদিন কাজ করতে চাই। বিয়ে নিয়ে আপাতত ভাবতে চাই না। তারপরও যদি হয়, মানে হওয়ার হলে হবে। তখন সবাইকে জানিয়েই আয়োজন করব।