আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা রেখে আইনজীবীদের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের দপ্তরের জন্য বহুতল ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। স্থাপত্য অধিদপ্তরের নান্দনিক নকশায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত অঙ্গনে তৈরি করা হচ্ছে এ দৃষ্টিনন্দন ভবন। দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা ভবনে বার কাউন্সিলের জন্য নিজস্ব পরীক্ষার হল, ট্রেনিং রুম, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লাইব্রেরি, প্রদর্শনী হল, খাবার ক্যান্টিন, সেমিনার কক্ষসহ শরীরচর্চার জন্য থাকছে অত্যাধুনিক ব্যায়ামাগার। নির্বাচিত সদস্যদের জন্য পৃথক দপ্তর, রেস্ট হাউজসহ সার্বক্ষণিক বিদ্যুতায়নের জন্য সাবস্টেশন করা হচ্ছে।
ভবনটি নির্মাণে ব্যয় হচ্ছে ১১৭ কোটি টাকা। আর এর নির্মাণকাজ শেষ হবে ২০২১ সালের জুনে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের তত্ত্বাবধানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কুশলী নির্মাতা লিমিটেড কাজটি বাস্তবায়ন করছে।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. সাহাদাত হোসেন গতকাল সোমবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বাংলাদেশ বার কাউন্সিলের আগের ভবনটি ভেঙে আমরা ইতিমধ্যেই নতুন ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেছি। ১৫ তলাবিশিষ্ট এ ভবনে আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা থাকবে। ভবন নির্মাণ শেষ হলে পুরো চত্বরটিও সবুজায়নের মাধ্যমে আমরা দৃষ্টিনন্দন করব।’
গণপূর্ত অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, বার কাউন্সিল ভবন নির্মাণ করতে ২০১৮ সালের জুলাই মাসে একটি প্রকল্প হাতে নেয় গণপূর্ত অধিদপ্তর। সেখানে প্রকল্প ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৭ কোটি ৬৬ লাখ ৩২ হাজার টাকা। প্রায় ২৫ কাঠা জমিতে সব প্রক্রিয়া শেষ করে ভবন নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে চলতি মাসের এপ্রিল মাসে। পুরো কাজটি শেষ করতে ২০২১ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। এ প্রকল্পের মধ্যে রয়েছেÑ বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যানের কক্ষ, ভাইস চেয়ারম্যানের কক্ষ, ৫টি ট্রাইব্যুনাল কক্ষ, ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যানের জন্য ৫টি কক্ষ, নিজস্ব পরীক্ষার হল, ৫টি প্রশিক্ষণ কক্ষ, ২৩টি অফিস কক্ষ, ৮টি রেকর্ড কক্ষ, নামাজ কক্ষ, বিশ্রাম কক্ষ, ১টি প্রদর্শনী হল, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর লাইব্রেরি, খাবার ক্যান্টিন, ৩টি সেমিনার কক্ষসহ শরীরচর্চা কেন্দ্র।
ভবনটিতে সার্বক্ষণিক বিদ্যুৎব্যবস্থার জন্য নিজস্ব সাবস্টেশন বসানো হচ্ছে। এ ছাড়া রাখা হচ্ছে আধুনিক অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা।
গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী (জোন-৪) মো. মাহবুবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দুটি বেজমেন্টসহ ১৫ তলা ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। আমাদের কাজ দ্রুতগতিতে করছি। যাতে নির্ধারিত সময়ের আগেই ভবন নির্মাণ সম্পন্ন হয়।’