বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলায় পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীকে (১১) ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
ঘটনার ১২দিন পর সোমবার রাতে ওই মাদ্রাসা ছাত্রীর বাবা বাদি হয়ে শরণখোলা থানায় মামলাটি দায়ের করেন।
ধর্ষণের পর বিষয়টি কাউনে না জানাতে শিশুটিকে নানা ভয়ভীতি প্রদান করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
মামলার একমাত্র আসামি উপজেলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের উত্তর খোন্তাকাটা রাশিদিয়া (স্বতন্ত্র) এবতেদায়ী মাদ্রাসার সুপার মো. ইলিয়াছ জমাদ্দার (৪৮)। মামলা দায়েরের পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
মামলার অভিযোগপত্র সূত্রে জানা যায়, গত ৮ আগস্ট সকাল সাড়ে ৭টার দিকে উত্তর খোন্তাকাটা রাশিদিয়া (স্বতন্ত্র) এবতেদায়ী মাদ্রাসার সুপার মাওলানা ইলিয়াছের কাছে পড়তে যায় পঞ্চম শ্রেণির ওই ছাত্রী। এ সময় ওই শিক্ষক তাকে মাদ্রাসার অফিস কক্ষে ডেকে নেয় এবং আটকে ধর্ষণ করে। এরপর বিষয়টি কাউকে না জানাতে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাড়ি পৌঁছে দেয়।
মাদ্রাসায় যাবার সময় পড়ে গিয়ে ইটের সাথে আঘাত পেয়ে রক্তক্ষরণ হচ্ছে বলে শিশুটির পরিবারকে জানিয়ে স্থানীয় পল্লি চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যায় ওই শিক্ষক। পরে রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে পার্শ্ববর্তী মোরেলগঞ্জ উপজেলার একটি বেসরকারি ক্লিনিকে চিকিৎসা করান পরিবার।
সেখানে চিকিৎসক ধর্ষণের ইঙ্গিত দিলে শিশুটির সাথে কথা বলে তার পরিবার পুরো বিষয়টি জানতে পারে। পরে তার বাবা বাদি হয়ে ওই মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন।
শিশুটির মা বলেন, ‘রক্তাক্ত অবস্থায় দুজন ছাত্রী আমার মাইয়েরে (মেয়ে) সেদিন হাতে হাতে বাড়িতে নিয়ে আইছে। পরে মেয়ে আমারে বলছে ইলিয়াছ তাকে কি করছে। আমি এর বিচার চাই।’
শরণখোলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দিলীপ কুমার সরকার বলেন, অভিযুক্ত ওই মাদ্রাসা শিক্ষককে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। শিশুটিকে ডাক্তারি পরীক্ষা শেষে জবানবন্দি নেওয়ার জন্য বাগেরহাট আদালতে পাঠানো হয়েছে।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ওই শিক্ষক পলাতক থাকায় তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।