টেঁটা এখন আর মাছ ধরার হাতিয়ার নয়। মানুষের প্রাণ নিতে এখন টেঁটা ব্যবহার হচ্ছে। দিন দিন নরসিংদীর মেঘনা নদী বেষ্টিত চরাঞ্চল গুলোতে এর ব্যবহার বেড়ে যাচ্ছে। তাই জেলার চরাঞ্চলে টেঁটা যুদ্ধ বন্ধে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে পুলিশ ।
সদর উপজেলার খোদাদিলা গ্রাম থেকে ৬২টি তাজা বোমা, ১৪০টি টেঁটা ও ৫টি রাম দা উদ্ধার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার দুপুরে নরসিংদী শহর পুলিশ ফাঁড়িতে সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান নরসিংদী পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার (বিপিএম বার, পিপিএম)।
পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার বলেন, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে রবিবার খোদাদিলা গ্রামের জাকির গ্রুপ ও হাসান গ্রুপের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। যার ফলে উভয়পক্ষের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ঘটনা ঘটে। এরই জের ধরে সোমবার ভোরে টেঁটা, বল্লম, ককটেল ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে দুই পক্ষ সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ সময় ১০ থেকে ১৫টি বাড়ি ঘরে ভাঙচুর চালানো হয়।
খবর পেয়ে সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাহেদ আহাম্মেদ ও সদর থানার ওসি সৈয়দুজ্জামানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সদরের চরাঞ্চল খোদাদিলা গ্রামে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেন।
এসময় আলাউদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ০৮ টি বালতি থেকে ৬২টি তাজা বোমা, ১৪০টি টেঁটা ও ৫টি রামদা উদ্ধার করেন। পরে ঢাকা থেকে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের বোম ডিসপোজাল ইউনিটের সদস্যরা এসে বোমাগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।
পুলিশ সুপার প্রলয় কুমার জোয়ারদার আরো বলেন, আইন শৃঙ্খলা বিনষ্টকারী অস্ত্রবাজ, টেঁটাবাজ, বোমাবাজ ও মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে পুলিশের জিরো টলারেন্স অবস্থান। যে ব্যক্তি নিষিদ্ধ এই সব জিনিসপত্র বহন করবে তাদের আইনের আওতায় আনা হবে।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, নরসিংদীর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন) জাকির হোসেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) শফিউর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার) বেলাল হোসেন, সদর সার্কেল সাহেদ আহাম্মেদ, সদর থানার ওসি সৈয়দুজ্জামান, ওসি (তদন্ত) সালাউদ্দিন মিয়া প্রমুখ।