ডেঙ্গু রোগী কমেছে ভিড় কমেনি

ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমলেও এখনো রাজধানীর হাসপাতালগুলোতে ভিড় করছেন ডেঙ্গু আতঙ্ক নিয়ে ছুটে আসা মানুষেরা। গতকাল বুধবার সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শ্যামলীর ঢাকা শিশু হাসপাতাল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। হাসপাতাল দুটিতে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে, তবে এখনো চাপ কমেনি প্যাথলজি বিভাগে। প্রায় আগের মতোই ভিড় লক্ষ্য করা গেছে সেখানে। চিকিৎসকরা বলছেন, সামান্য ঠাণ্ডা-কাশিতে ভোগার পর ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়েছেন সন্দেহে পরীক্ষার মাধ্যমে নিশ্চিত হতে বেশিরভাগ মানুষ আতঙ্কে ছুটছেন হাসপাতালগুলোতে।

সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে গত সোমবার সকাল ৮টা থেকে গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ৪০৩ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করেছে প্যাথলজি বিভাগ। প্যাথলজি বিভাগের সক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি পরীক্ষা করতে আসা রোগীর রিপোর্ট দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতালটির কর্র্তৃপক্ষকে। এখানে প্রতি পাঁচজনে একজনের ডেঙ্গুজ্বর ধরা পড়ছে।

সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক উত্তম কুমার বড়–য়া দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঈদের পর থেকে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা কমেছে। এখন বেশিরভাগ রোগী সর্দি, কাশি ও শরীর ব্যথা হলে ভয়ে-আতঙ্কে ডেঙ্গুজ্বর পরীক্ষার জন্য আসছে হাসপাতালে। তাদের আমরা অবহেলা করছি না, রোগের লক্ষণ বুঝে সেই অনুযায়ী তাদের পরীক্ষা করতে বলা হচ্ছে।’

হাসপাতালটির সহকারী পরিচালক কে এম মামুন মোর্শেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে কেমিক্যালের কোনো ঘাটতি নেই। যথেষ্ট ওয়ার্ডের ব্যবস্থাও আছে। পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপ ও ওভার লোডের কারণে তিনটি মেশিনের পাশাপাশি আজ (গতকাল বুধবার) আরও একটি মেশিন সংযোজন হয়েছে। তবে প্যাথলজি বিভাগে ধারণক্ষমতার বাইরে ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে আসা অতিরিক্ত রোগীর কারণে কিছু লোকবলের অভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে যেখানে ২০০ রোগীর পরীক্ষা করানোর সামর্থ্য আছে, সেখানে দুই হাজার রোগীকে পরীক্ষা করানো হচ্ছে।’

বুধবার এই হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বর পরীক্ষার রিপোর্ট নিতে আসা রাবেয়া বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত সোমবার রাত থেকে শরীর ব্যথা ও হালকা জ্বর। ডেঙ্গুজ্বর হয়েছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য পরদিন সকালে হাসপাতালে আসি। চিকিৎসক সিবিসি ও এনএস-১ পরীক্ষার জন্য বলেন। প্যাথলজি বিভাগ থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে মঙ্গলবার। পরে আজ (বুধবার) সকাল ৯টায় আমাকে আসতে বলা হয়। দুই ঘণ্টা অপেক্ষার পর রিপোর্ট সংগ্রহ করি। রিপোর্ট ভালো এসেছে। ডেঙ্গুজ্বর হয়নি।’

শিশু হাসপাতালে কমেছে ডেঙ্গু রোগী : শ্যামলীর ঢাকা শিশু হাসপাতালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ঈদের পর থেকে কমতে শুরু করেছে। তবে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমলেও ডেঙ্গু আতঙ্ক থেকে ডেঙ্গুজ্বর নিশ্চিতের জন্য প্রতিদিন কয়েকশ রোগী আসছে বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ।  

ঢাকা শিশু হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আবদুল হাকিম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গত সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত ৯৯ রোগী ভর্তি হয়েছে। আগের চেয়ে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক কমেছে। তবে ডেঙ্গু আতঙ্কে প্রতিদিন দু-একশ রোগী আসছে হাসপাতালে। তাদের প্রতি ১০০ জনের পরীক্ষার পর পাঁচজনের ডেঙ্গুজ্বর ধরা পড়েছে।’