ভারতের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান কাশ্মীরি নেতা গিলানির

ভারত সরকারকে প্রতিহত করতে পাঁচ দফা কর্মসূচি ঘোষণা করেছেন কাশ্মীরের সব রাজনৈতিক দল ও সংগঠনের মোর্চা হুরিয়াতের চেয়ারম্যান সাইয়েদ আলী শাহ গিলানি।

ডন জানায়, জম্মু-কাশ্মীরের অধিকার ফিরে পেতে এক চিঠিতে পাঁচ দফা কর্মসূচি দেন কাশ্মীরের প্রবীণ নেতা গিলানি। 

সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে বিশেষ মর্যাদা কেড়ে নেওয়া, ভারতীয় সেনা দিয়ে পুরো উপত্যকা অবরুদ্ধ করে রাখা সেই সঙ্গে কাশ্মীরি জনগণের ওপর দিল্লির দমন-নিপীড়নমূলক অভিযান প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি।

কাশ্মীরের জনগণের উদ্দেশ্যে খোলা চিঠিতে গিলানি অঞ্চলটিতে সাম্প্রতিক ঘটনার বর্ণনা দিয়ে এর নিন্দা জানিয়েছেন। সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নিয়ে তিন সপ্তাহ ধরে রাজ্যটিকে অবরুদ্ধ করে রাখায় ভারত সরকারের তীব্র সমালোচনা করেন এতে তিনি।

ভারতীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে সাহসিকতার সঙ্গে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়ার জন্য কাশ্মীরিদের প্রতি আহ্বান জানান হুরিয়াত নেতা। তবে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার প্রতি তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

সরকারি আমলা, সেনা, আধা সেনা,পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করে কাশ্মীরিদের মৌলিক মানবাধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে আহ্বান জানান তিনি।

কাশ্মীরের বাইরে অবস্থান করা ও বাস করা বাসিন্দাদের প্রতি তিনি বলেন, “তাদের উচিত কাশ্মীরের ইতিহাস এবং ভারত সরকারের নিপীড়ন-বর্বরতার অভিজ্ঞতা বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা। এর মাধ্যমে বিশ্বের অন্যান্য প্রান্তিক গোষ্ঠী ও সংগ্রামী মানুষদের সঙ্গে যোগাযোগ ও প্রতিরোধের সংহতি গড়ে তোলা উচিত।”

কাশ্মীরের জনগণের পাশে এগিয়ে আসতে পাকিস্তানি নেতাদের প্রতিও তিনি আহ্বান জানান।

জম্মু, কাশ্মীর, লাদাখের সব ধর্ম ও জাতিগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দিয়ে তিনি বলেন, “ভারত শুধু আমাদের জমি দখল করতে চায় না, তারা আমাদের সম্মিলিত পরিচয় এবং ভ্রাতৃত্ববোধ ধ্বংস করার পরিকল্পনা করছে।”

“তাদের এই জঘন্য ষড়যন্ত্র কোনোভাবেই সফল হতে দেওয়া আমাদের উচিত নয়।”

তিনি বলেন, “আমাদের জীবন, সম্পত্তি এবং জনসংখ্যার গঠন সুরক্ষিত রাখতে আমাদের সবাইকে প্রতিরোধ সংগ্রামের সঙ্গে দাঁড়াতে হবে।”