নতুন রোগীর সংখ্যা কমায় কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালগুলোতে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার চাপ কমায় এবং অনেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে যাওয়ায় ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভালোর দিকে যাবে বলে আশা করছেন চিকিৎসক-কর্মকর্তারা। গতকাল শনিবার রাজধানীর কয়েকটি হাসপাতাল ঘুরে, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক এবং প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এই তথ্য জানা গেছে। এর আগের কয়েক সপ্তাহ রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গু ছড়িয়ে পড়ায় হাসপাতালগুলোতে ওষুধ এবং কিটের সংকট দেখা দিলে দায়িত্বরত চিকিৎসক, নার্স এবং কর্মকর্তারা রোগী সামলাতে বিপাকে পড়েছিলেন।
জানতে চাইলে রাজধানীর বাড্ডা এ এম জেড হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডা. মেহেদী হাসান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেক কমে আসছে। আগে যেখানে ৩০ থেকে ৩৫ জন রোগী আসত সেখানে গত এক সপ্তাহ যাবৎ দৈনিক সর্বোচ্চ ৫ জন রোগী ভর্তি হচ্ছে বা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে। তখন সন্ধ্যা নামলে ডেঙ্গু রোগী সামাল দিতে হিমশিম খেতে হতো, এখন কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।’ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের বাড্ডা শাখার ইনচার্জ মো. ফিরোজ মিয়া বলেন, ‘আগের সপ্তাহগুলোতে প্রতিদিন ৮০ জনের বেশি রোগী আসত, সেটা এখন কমে ৩০ জনের মতো দাঁড়িয়েছে। আমরা যারা কর্মকর্তা তাদের নিঃশ্বাস নেওয়ার সময় ছিল না। এখন রোগী কমে যাওয়ায় একটু ভালো আছি। তবে পরিস্থিতি কোনদিকে যায় বলা যাচ্ছে না। বৃষ্টি হলে জলাবদ্ধতায় এডিস মশার লার্ভা আবার বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
ইবনে সিনা ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ব্যবস্থাপক নূরুল খালেক চৌধুরী জানান, ডেঙ্গুর পরীক্ষা করাতে রোগীরা আগের মতো ভিড় করছেন না। রোগী অর্ধেকের চেয়ে বেশি কমে গিয়েছে। বাড্ডা জেনারেল হাসপাতালের ব্যবস্থাপক জানান, হাসপাতালে এখন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা খুবই কম। কয়েক দিন আগে প্রতিদিন ১৫ থেকে ২০ জন ডেঙ্গু রোগী এলেও এখন এক বা দুজন আসে। বনশ্রীর ফরাজী হাসপাতাল, রামপুরার ডিআইটি রোডের বেটার লাইফ হাসপাতালে খোঁজ নিয়েও একই চিত্র দেখা যায়।