অ্যাওয়েতে ভালো করার রসদ চাই

বাংলাদেশ ক্রিকেটের নতুন সেøাগান হতে পারে, ‘দেশে বিদেশে সমান পারফরম্যান্সে জয় চাই’। দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে উড়ে এসে নতুন প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো বুঝি বাংলাদেশের ক্রিকেটের শিরা-ধমনিতে এই কথাগুলো ঢুকিয়ে দিতে শুরু করেছেন। এখন ক্রিকেট-সংশ্লিষ্ট যে কারও সঙ্গে কথা বলতে গেলে হোমের সঙ্গে অ্যাওয়েতে সমান ভালো করার লক্ষ্যের প্রসঙ্গ চলে আসছে। গতকাল যেমন দুই সদস্যের নির্বাচকমণ্ডলীর দ্বিতীয়জন হাবিবুল বাশার সুমন এবং জাতীয় দলের ক্যাম্পের পেসার শফিউল ইসলামের কথাতেও ঘুরেফিরে চলে এলো তা।

ডমিঙ্গো গেল সপ্তাহে এই মাটিতে পা রেখেই তার পরিকল্পনার অন্যতম হিসেবে তুলে ধরেছেন বিদেশের মাটিতে জয়ের কথা। আরেক দক্ষিণ আফ্রিকান নতুন ফাস্ট বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্টও পেসারদের বিদেশের জন্য তৈরি করার কথা বলেছেন বিশেষভাবে। ক্রিকেট অপারেশন্স ম্যানেজার আকরাম খানের মনেও খুব দাগ কেটেছে ডমিঙ্গোর পরিকল্পনা। দেশে এখন টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো করছে বাংলাদেশ। ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জয়ের ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে। কিন্তু বিদেশের মাটিতে জয় বলতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দুটি, জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একটি এবং শ্রীলঙ্কায় একটি। এখনো নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে থই খুঁজে পায় না বাংলাদেশ। খুব নবিস লাগে পারফরম্যান্স। এটা ধীরে ধীরে বদলে দিতে চান ডমিঙ্গো-ল্যাঙ্গাভেল্টরা।

গতকাল দুপুরে হাবিবুল যেমন ল্যাঙ্গাভেল্টের সঙ্গে বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে বলছিলেন, ‘পেস নিয়ে তো আলাদা চিন্তা করতে হবেই। আমরা যদি ঘরের বাইরে ম্যাচ জিততে চাই তাহলে আমাদের পেস বোলিংটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, এটা আমরা আগেও অনুভব করেছি। ঘরের মাঠে যখন খেলা হয় তখন স্পিনাররাই মূল কাজটা করে থাকে। কিন্তু যখন দেশের বাইরে যাই তখন পেসারদের খুব দরকার হয়।’ সাবেক অধিনায়ক ল্যাঙ্গাভেল্টের নাম নিয়ে বলছিলেন, ‘সেটা ও জানে। সেটা নিয়েই আলাপ হলো। আসলে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে। সে অনেক উচ্ছ্বসিত। ও সবাইকে দেখতে চেয়েছে।’

সম্প্রতি ইংল্যান্ডে চারটি ম্যাচ জেতা এবং সেখানে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে খেলা অনূর্ধ্ব-১৯ দল, খেলায় থাকা হাই পারফরম্যান্স দল, বিসিবির মূল পরিকল্পনার মধ্যে আসা ‘এ’ দলে যেসব পেসার খেলছেন তাদের সবার প্রতি আগ্রহী ল্যাঙ্গাভেল্ট। জাতীয় দলে কিছুটা পেসার সংকট। আর প্রোটিয়া সাবেক ফাস্ট বোলারের ইচ্ছে, পাইপলাইনে থাকা মানসম্পন্ন পেসারকে আরও তৈরি করে সময়-সুযোগ মতো জাতীয় দলে টেনে আনা। নিজেও সেদিন বলছিলেন এসব। আর হাবিবুল সেই কাজে বোলিং কোচের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন, ‘আমাদের এইচপি দলের যারা ফাস্ট বোলার আছে তাদের নিয়েও ওকে দেখাব। আমাদের যেহেতু এইচপিতে একজন কাজ করছেন, সঙ্গে কাদের নিয়ে আমরা কাজ করছি, কারা বেশি প্রতিশ্রুতিশীল, সেটা যেন ওর মাথাতেও থাকে। এই (ক্যাম্প) ট্রেনিংগুলোতে ফাস্ট বোলার নিয়ে আসব, তখন যদি তাদের খেলা না থাকে তখন ওদের নিয়ে আসব কাজ করার জন্য। যেন ভবিষ্যতের জন্য আমরা কাজ করতে পারি ভালোভাবে।’

তা গতকালও এইচপির কয়েকজন ক্যাম্পে বল করলেন। ডমিঙ্গো-ল্যাঙ্গাভেল্টের সঙ্গে তাদের আলাপে মেতে থাকতেও দেখা গেল। এর বাইরে গিয়ে হাবিবুল বলছিলেন, আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের দল ঘোষণা করবেন এ মাসের শেষে। এখনো দল চূড়ান্ত করেননি তিনি ও প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীন নান্নু। দেশে খেলা। তাই ১৬ সদস্যের দল করার সুবিধাটাও নিতে পারেন। তামিম ইকবাল বিশ্রামে। সাদমান ইসলামের সঙ্গে ইনিংস ওপেন করবেন কে? হাবিবুল বললেন, ‘আমাদের আলোচনা চলছে যে নতুন কাউকে দেখব নাকি ভবিষ্যতের কথা ভেবে আমরা নতুন উদ্বোধনী জুটি দেখব।’ এখানে একটু ভাবনার জটে আটকে তারা।

তবে দেশের মতো বিদেশের মাটিতেও বাংলাদেশ একটু চেষ্টা করলে আরও ভালো করতে পারবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছতে অভিজ্ঞ পেসার শফিউলের কোনো সংশয় নেই। ডমিঙ্গোর লক্ষ্য এই সময়ে কতটা বাস্তবসম্মত সেই প্রসঙ্গে গতকাল মিরপুরের মাঠে অনুশীলন শেষে শফিউল বলছিলেন, ‘বাংলাদেশ এখন তো ভালো খেলছে। ২০১৫ বিশ্বকাপ বলুন, চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি (২০১৭), তাছাড়া এবারের বিশ্বকাপে অনেক ভালো খেলেছে। আমরা যেমন কঠোর পরিশ্রম করেছি তাতে আমাদের যেমন অভিজ্ঞতা হয়েছে, আমি মনে করি দেশে যেমন ভালো করছি বিদেশেও তেমন ভালো করা সম্ভব।’

কিন্তু টেস্ট ভিন্ন খেলা। দেশের মাটিতে বাংলাদেশ স্পিনবান্ধব উইকেটে খেলে। ১৩ জয়ের ৯টি এখানে। দেশে জায়ান্টবধ কাব্যও স্পিনে বলীয়ান হয়ে। কিন্তু বিদেশে পেস বোলারের ওপর বেশি নির্ভর করতে হবে। আর তা করতে গেলে দেশের মাটিতে বিদেশের মতো উইকেট তৈরি করার মতো ব্যাপারও থাকে। সেই প্র্যাকটিস যে নেই!

শফিউল আশাই দেখেন, ‘এখন যে আমরা নেট করছি তা খুব ভালো উইকেটে। যে কন্ডিশনে আমাদের খেলতে হবে তেমন উইকেটে প্রস্তুতি নিতে পারলে অভ্যস্ত হওয়া যায়। অ্যাওয়েতে যে রকম উইকেট থাকে তেমনটা পেলে তা ব্যাটসম্যান-বোলার সবার জন্যই ভালো।’

যেহেতু এখন সেøাগান উঠেছে অ্যাওয়েতেও হোমের মতো সমান ভালো পারফরম্যান্স করার তখন উইকেটের ওপর তার প্রভাব পড়তে তো বাধ্য! দেখা যাক সামনের সময় কী বলে।