পাসপোর্ট সেবা প্রদানে নানা অনিয়মের অভিযোগে বাগেরহাটের আঞ্চলিক পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। দুদকের হটলাইন নম্বর ১০৬ এ ভুক্তভোগীর ফোন পেয়ে সোমবার শহরের খারদ্বার এলাকার পাসপোর্ট অফিসে অভিযান চালায় দুদক।
অভিযান চলাকালে দালাল হিসেবে অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে আটক করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে তাকে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়।
দুদকের খুলনা সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষের নেতৃত্বে পাসপোর্ট অফিসে অভিযানকালে বিভিন্ন অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়। দুদকের উপস্থিতি টের পেয়ে পাসপোর্ট অফিস কেন্দ্রিক অনেক দালাল গা ঢাকা দেয়। এ সময় মকছুদ আলী আকুঞ্জি (৫৮) নামে এক দালালকে হাতেনাতে আটক করা হয়। তিনি বাগেরহাট শহরের দশানী এলাকার প্রয়াত হাসান আলী আকুঞ্জির ছেলে।
অভিযানে পাসপোর্ট অফিসের পরিচ্ছন্নতাকর্মী মো. মোস্তাফিজুর রহমান, আনসার সদস্য মো. মিজানুর রহমান ও আল মামুনের বিরুদ্ধে দালালদের সঙ্গে যোগসাজশে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি ও অবৈধভাবে অর্থ গ্রহণের সত্যতা পায় দুদক।
আটক দালাল মকছুদ আলীকে বাগেরহাট জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. কামরুল হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালতে এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন।
অভিযানে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন দুদকের খুলনা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক নীলকমল পাল, সহকারী পরিদর্শক শ্যামল চন্দ্র সেন, উপসহকারী পরিদর্শক আব্দুস সালাম।
দুদকের সহকারী পরিচালক তরুণ কান্তি ঘোষ এই প্রতিবেদককে বলেন, আমরা সেখানে পাসপোর্ট ফরম জমা গ্রহণে অযথা হয়রানি, পরিচ্ছন্নতাকর্মীর মাধ্যমে ফরম জমা নেওয়া, দালালদের দৌরাত্ম্যসহ বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পাই।
তিনি আরও বলেন, অনিয়মের দায়ে অভিযুক্ত পাসপোর্ট অফিসের তিন কর্মচারীর বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে আগামী ৭ দিনের মধ্যে দুদককে জানাতে বলা হয়েছে। এ ছাড়া দালালমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছবিসহ চার্ট টানানো, ৩ বছরের বেশি সময় ধরে এই কার্যালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বদলিসহ বেশ কিছু সুপারিশ করার হয়েছে। একই সঙ্গে অফিসের অন্য কর্মকর্তাদেরও সতর্ক করা হয়েছে।