নগরীতে ছুরিকাঘাতে জাকির হোসেন সানি (১৮) নামে এক তরুণ খুন হয়েছেন। গতকাল সোমবার দুপুরে খুলশীর জাকির হোসেন রোডে ওমর গণি এমইএস কলেজের বিপরীতে একটি ভবনের নিচে তাকে ছুরিকাঘাত করা হয় বলে জানিয়েছে পরিবার। গুরুতর আহত অবস্থায় চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গতকাল বিকেল ৫টার ট্রেনে ঢাকায় যাওয়ার কথা ছিল সানির। কিন্তু তখন তার নিথর দেহ পড়ে ছিল চমেকের লাশ ঘরে। সেখানে সানির মা সাজেদা বেগম বিলাপ করে বলছিলেন, ‘আমার ছেলেটা আজ ঢাকা যেত। বন্ধুরা তারে শেষ করছে। নয়ন বন্ডের কাহিনীর মতো আমার ছেলেটারে মেরে ফেলছে।’ হত্যায় বন্ধুদের দায়ী করে তিনি বলেন, ‘আমার ছোট ছেলেটারে রাজনীতি ও প্রেমের কারণে খুন করেছে। পাঁচ দিন আগেও কয়েকজন মিলে প্রবত্তঅক এলাকায় তাকে মারধর করে।’ গত ২৫ জুন বরগুনা শহরের কলেজ রোডে রিফাত শরীফ নামে এক যুবককে স্ত্রীর সামনেই কুপিয়ে জখম করে আরেক দল যুবক। দেশজুড়ে আলোড়ন তোলা এ ঘটনায় প্রধান অভিযুক্ত নয়ন বন্ড কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন।
সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা উপজেলার কলাপাড়া গ্রামের মৃত আবদুল মান্নানের ছেলে সানি ছিল ভাইবোনের মধ্যে সবার ছোট। তিনি কয়েক বছর আগেও চট্টগ্রামে তার বড় বোন মাহমুদা আক্তারের বাসায় থেকে লেখাপড়া করতেন। বর্তমানে ঢাকার মিরপুরে একটি স্কুলে দশম শ্রেণিতে পড়ছিলেন। চট্টগ্রামে সিআইডির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কুতুব উদ্দিন তার ভগ্নিপতি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওমর গণি এমইএস কলেজ ছাত্র সংসদের ভিপি ওয়াসিম উদ্দিনের অনুসারী ছিলেন সানি। সানির মৃত্যুর খবর পেয়ে তারা হাসপাতালে ছুটে আসেন। সেখানে সাংবাদিকদের কাছে অভিযোগ করে বলেন, ‘সানির ওপর হামলাকারীরা এমইএস কলেজের সাবেক ও বর্তমান ছাত্র।’ ভিপি ওয়াসিমের বিরোধী পক্ষের ছেলেরা সানিকে ছুরিকাঘাত করে বলে দাবি সানির কয়েক বন্ধুর।