নুসরাত হত্যা: তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য শেষ, আলামত হস্তান্তর

ফেনীর চাঞ্চল্যকর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার দায়ে করা মামলার মূল তদন্ত কর্মকর্তা ফেনীর পিবিআই পরিদর্শক শাহ আলমের সাক্ষ্য শেষ হয়েছে। বুধবার তাকে জেরা করবেন আসামি পক্ষের আইনজীবীরা।

ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদের আদালতে মামলার শুনানি চলছে। এই আদালতেই তদন্ত কর্মকর্তা মঙ্গলবার মামলার আলামত জমা দেন। আদালতে অডিও, ভিডিও ক্লিপও উপস্থাপন করা হয়। 

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি হাফেজ আহাম্মদ বলেন, গত চার কর্মদিবসে মামলার তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।

মঙ্গলবার বিকেলে তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে আদালত জেরা শুরুর অনুমতি দেয়। আসামি পক্ষে ঢাকা থেকে আসা আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ জেরা শুরু করেন। কিন্তু অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে আদালতের সময় শেষ হলে বিচারক বুধবার সকাল পর্যন্ত আদালতের কার্যক্রম মুলতবি ঘোষণা করেন। সে মতে বুধবার তদন্ত কর্মকর্তার জেরা শুরু হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানান হাফেজ আহাম্মদ।

তিনি জানান, এ পর্যন্ত মামলার মোট ৮৭ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেছে আদালত। মঙ্গলবার বিকেলে তদন্ত কর্মকর্তার সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে বিচারক দুটি ভিডিও ক্লিপ মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টরে প্রদর্শন ও দুটি অডিও ক্লিপ অডিও সাউন্ড সিস্টেমে পরিবেশনের নির্দেশ দেন। এ সময় প্রথমে নুসরাতের দুটি ভিডিও ক্লিপ প্রজেক্টরে প্রদর্শন করা হয়। এর একটি মৃত্যুকালীন জবানবন্দি হিসেবে মামলার বাদী ও নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানের মোবাইল ফোনসেটে ধারণ করা। অপরটি ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের একজন চিকিৎসকের মোবাইল ফোনসেটে ধারণ করা। এসব ক্লিপে নুসরাত তাকে হত্যার চেষ্টার বর্ণনা দিয়েছেন।

জেরাকালে আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারুক আহাম্মদ তদন্ত কর্মকর্তাকে বলেন, মামলার কোনো কাগজপত্রে এই কথিত জীবনের নাম কোথাও নেই। এমনকি তাকে সাক্ষীও করা হয়নি। তাহলে এই ক্লিপ কোথা থেকে এলো। তদন্ত কর্মকর্তা এর জবাব দেওয়ার পূর্বে আদালতের সময় শেষ হয়ে যায়।

এ প্রসঙ্গে আসামি পক্ষের আইনজীবীদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বিচারক বলেন, এসব ভিডিও এবং অডিও ক্লিপ আপনারা যতবার চাইবেন, ততবার প্রদর্শন করা হবে।