জম্মু-কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিলের পর গত তিন সপ্তাহে অন্তত ৫০০ বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। দেশটির এক শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা সূত্রে বুধবার এ খবর জানায় বার্তা সংস্থা এএফপি।
৫ আগস্ট ভারতের রাজ্যসভায় সংবিধানের ৩৭০ ধারা বাতিল করে বিজেপি সরকার। এর আগের দিন থেকে জম্মু-কাশ্মীরে কঠোর সামরিক নিরাপত্তা জারি করা হয়।
কারফিউ জারি করে ইন্টারনেট সংযোগ এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দেওয়ায় এখন পর্যন্ত কাশ্মীরের সঙ্গে পুরো বিশ্বের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন।
আল জাজিরা জানায়, এএফপিকে ভারতের এক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে ৫০০টি বিক্ষোভ ও সামরিক বাহিনীর প্রতি পাথর ছোড়ার ঘটনা ঘটেছে। যার অর্ধেকের বেশি ঘটেছে রাজধানী শ্রীনগরে। এতে পুলিশ বাহিনীর ৩০০ এবং আধা সামরিক বাহিনীর ১০০ এর অধিক সদস্য আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় ১০০ জনের মতো বিক্ষোভকারী আহত হয়েছেন।
ওই সরকারি কর্মকর্তা বলেন, কঠোর নিরাপত্তা জারি না থাকলে আরও বেশি এবং বড় ধরনের বিক্ষোভ সৃষ্টি হতো। এমন পরিস্থিতিতে জম্মু-কাশ্মীরকে সচল করার নানা চেষ্টা করা হলেও কোনোভাবে সম্ভব হয়ে উঠছে না।
তিনি যোগ করেন, মোবাইল ও ইন্টারনেট বন্ধ থাকায় সামরিক বাহিনীদেরও কষ্ট হয়ে যাচ্ছে, প্রত্যন্ত অঞ্চলে কী ঘটছে সে সম্পর্কে জানার।
আরেক শীর্ষ কর্মকর্তা জানান, ৫ আগস্টের পর থেকে পুলিশের প্রতি পাথর ছোড়ার অভিযোগে ১৩৫০ জন বিক্ষোভকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
৫ আগস্টের আগের দিন থেকে দুই সাবেক মুখ্যমন্ত্রী, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা-কর্মীসহ এখন পর্যন্ত অন্তত ৪ হাজার মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয় রাজ্যটিতে। কারাগারের স্থান সংকুলান না হওয়ায় বন্দিদের পাঠানো হচ্ছে অন্যান্য রাজ্যের কারাগারগুলোতে।
বিশেষ মর্যাদা বাতিলের প্রতিবাদে পরপর দুই শুক্রবারেই জুমার নামাজের পর বড় ধরনের বিক্ষোভ সৃষ্টি করে কাশ্মীরিরা। তাদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর পেলেট বন্দুক ছোড়ার অভিযোগ।