বিএনপির গোলটেবিল বৈঠকে অভিমত

রোহিঙ্গা সংকটে সরকারের পররাষ্ট্রনীতি দায়ী: ফখরুল

রোহিঙ্গা সংকটের পেছনে বাংলাদেশের কৌশলগত সমস্যার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমস্যাও আছে উল্লেখ করে তা নিরসনে সব রাজনৈতিক দলের ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গঠনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার বিকেলে রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে বিএনপি আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট ও বাংলাদেশের ভূমিকা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়। ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা সংকট নিরসনে দলের পক্ষ থেকে ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মাহবুব উল্লাহ বলেন, ‘চীন, ভারত আর মিয়ানমারের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা ছাড়া রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করা যাবে না। চীন ও মিয়ানমারের মধ্যে সম্পর্ক ভালো। চীনের অনেক বড় বিনিয়োগ রয়েছে মিয়ানমারে।’

তিনি বলেন, ‘জাতীয় ঐক্য ছাড়া এই সংকট সমাধান সম্ভব নয়। সব রাজনৈতিক দলের একটি ঐক্যবদ্ধ প্ল্যাটফর্ম গঠন জরুরি। আমাদের পররাষ্ট্র দপ্তরকে বিশ্বকে বোঝাতে হবে, রোহিঙ্গারা কীভাবে তাদের অধিকার বঞ্চিত হচ্ছে এবং এই সংকট অতি দ্রুত সমাধান করা জরুরি।’

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেন, ‘রোহিঙ্গা সংকটের পেছনে বাংলাদেশের কৌশলগত সমস্যার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সমস্যাও আছে। ২০১৭ সালের আগেও রাখাইন প্রদেশে রোহিঙ্গা নিয়ে এ সংকটটি বিদ্যমান ছিল। সেখানে জাতিগত নিধন আগে থেকেই ছিল। পরে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গার এ সংকটটি বাংলাদেশে চলে এসেছে। আমরা এখন যে সংকটটির মুখোমুখি হয়েছি, এই সংকট ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টা ছাড়া সমাধান করা সম্ভব হবে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এটা কোনো দ্বিপক্ষীয় সমস্যা নয়, আন্তর্জাতিক সমস্যা। আন্তর্জাতিক ভূমিকা ছাড়া এই সংকটের সমাধান সম্ভব হবে না। বাংলাদেশ শুধু একা নয়, এই সংকট আন্তর্জাতিকভাবেই সমাধান করতে হবে।’

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন,  নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে মিয়ানমারের ফাঁদে পা দিয়েছে সরকার। রোহিঙ্গা সংকট সমাধান করতে হলে সরকারকে অবশ্যই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, মিয়ানমার সরকার তাদের পররাষ্ট্রনীতিতে সব সময় অটল থেকেছে। কিন্তু বাংলাদেশ অটল থাকতে ব্যর্থ হয়েছে।

ফখরুল বলেন, রোহিঙ্গাদের কারণে সামাজিক ও অর্থনৈতিকসহ নানা ধরনের সমস্যা হচ্ছে। রোহিঙ্গাদের বাসস্থান, ভূমির মালিকানা ফিরিয়ে দেওয়া, নাগরিকত্ব ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার জন্য পার্শ্ববর্তী দেশগুলোসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সহযোগিতা দরকার।

গোলটেবিল বৈঠক পরিচালনা করেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, বেগম সেলিমা রহমান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের ট্রাস্টি ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর সালেহ উদ্দিন আহমেদ, বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আহমেদ আযম খান, নিতাই রায় চৌধুরী, ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন, বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য সুকোমল বড়–য়া, সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি জয়নুল আবেদীন, আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক মাসুদ আহমেদ তালুকদার প্রমুখ।

উপস্থিত ছিলেন জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন, ভারত, পাকিস্তান, তুরস্ক, নরওয়ে, জাপান, সুইডেন, আফগানিস্তান, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধিরা।