গাজীপুর সিটিতে বর্জ্য থেকে উৎপাদন হবে গ্যাস ও বিদ্যুৎ

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় গৃহস্থালি ও বাণিজ্যিকসহ প্রতিদিন প্রায় দুই হাজার টন বর্জ্য তৈরি হয়। আর এ বিপুল পরিমাণ বর্জ্যরে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিয়ে নগরীর নিয়োজিত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের হিমশিম খেতে হচ্ছে প্রতিদিনই। এবার এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নতুন দিগন্তের সূচনা হতে চলেছে। জাপানের সহযোগিতায় বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস তৈরির একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে যাচ্ছে গাজীপুর সিটি করপোরেশন কর্র্তৃপক্ষ। এতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পেছনে হওয়া যাবতীয় খরচ মিটিয়েও বছরে কমপক্ষে ২০ কোটি টাকা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে বলে সিটি মেয়র মুহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘গাজীপুরকে একটি পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত আধুনিক নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রাস্তা প্রশস্তকরণ এবং নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন অন্যতম।’

মেয়র জানান, সম্প্রতি তিনি জাপানের অন্যতম নগরী হামামাটসু সফরে যান। তখন সেখানকার মেয়র ইয়াসুটুমু সুজুকির সঙ্গে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে বিস্তারিত আলাপ-আলোচনা হয়। এ সময় হামামাটসু শহরের অভিজ্ঞতার আলোকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় যৌথভাবে কাজ করতে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘গাজীপুর সিটির সব বর্জ্য ডাম্পিং স্টেশনে জড়ো করে জাপান থেকে আমদানি করা মেশিনে রিসাইক্লিং করে তা থেকে বিদ্যুৎ ও গ্যাস উৎপাদন করা হবে। করপোরেশনের চলতি বছরের বাজেটে এ প্রকল্পের জন্য ১২শ’ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবং আগামী ১০ মাসের মধ্যে উৎপাদন শুরু করা হবে। নতুন কর্মসংস্থানের পাশাপাশি এ প্রক্রিয়ায় যাবতীয় খরচ মিটিয়ে বছরে ২০ কোটি টাকা সাশ্রয় হবে।’

মেয়র আরও বলেন, ‘২০১৩ সালে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের যাত্রা শুরু হওয়ার পর থেকেই দিনে দিনে এই সিটির বর্জ্য নাগরিক দুর্ভোগের মারাত্মক কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। নগরীতে স্থায়ী কোনো ডাম্পিং স্টেশন নেই। সিটিতে সুষ্ঠু বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাব ক্রমশই প্রকট হয়ে দেখা দিচ্ছে।’