সরকারি শর্ত পূরণ না করেই পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া উপজেলার শালবাহান ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরের ৭০টি গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে ওই ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিনা কারণে ইউপি চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান লিটন তার লোকজন দিয়ে গাছগুলো কেটে গোপনে বিক্রির চেষ্টা করছিলেন। পরে স্থানীয়রা প্রতিবাদ জানালে গাছগুলো ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরেই জমা করে রাখা হয়। সরকারি শর্ত পূরণ না করে বিনা কারণে পরিষদ চত্বরে সুশোভিত বড় বড় গাছ কাটায় ওই এলাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকাবাসী জানায়, গত এক সপ্তাহ আগে ইউপি চেয়ারম্যান হঠাৎ তার লোকজন দিয়ে পরিষদ চত্বরের গাছগুলো বিনা কারণে কাটতে থাকেন। পরিষদ চত্বরের চারপাশে থাকা মেহগনি, কাঁঠাল, আকাশমনি ও জলপাইসহ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় গাছ কেটে ফেলা হয়। স্থানীয়রা কিছু বুঝে ওঠার আগেই ৭০টি গাছ কেটে ফেলে চেয়ারম্যানের লোকজন। গাছগুলো কেটে জমা করে রাখা হয় পরিষদ চত্বরেই। তার মধ্য থেকে কিছু গাছের লগ গোপনে সরিয়ে ফেলা হয়েছে। পরিষদ চত্বরে কাটা কিছু গাছের গোড়া তুলে সরিয়ে ফেলা হলেও অধিকাংশ গাছের গোড়া এখনো রয়ে গেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চেয়ারম্যান গাছগুলো বিক্রি করে তার লোকজন নিয়ে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা করছিলেন। তবে সবাই বিষয়টি জেনে যাওয়ায় তার উদ্দেশ্য ভেস্তে যায়।
ওই এলাকার শওকত আলী বলেন, ‘আগের চেয়ারম্যানরা ওই গাছগুলো রোপণ করেছিলেন। লিটন চেয়ারম্যান একটা গাছ তো লাগায়নি উল্টো কেটে সাবাড় করেছে। সে আমাদের শুনিয়েছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে অনুমতি নিয়ে গাছ কেটেছে। পরে আমরা খোঁজ নিয়ে দেখি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এর কিছুই জানেন না।’
চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান লিটন বলেন, ‘গাছের কারণে ইউনিয়ন পরিষদ ভবনটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ছে তাই গাছগুলো কাটা হয়েছে।
সরকারি গাছ কাটার প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী উপজেলা প্রশাসনের অনুমোদন নিয়ে বনবিভাগের মূল্য নির্ধারণপূর্বক গাছ কাটার অনুমতি পাওয়ার পর পত্রিকায় নিলাম দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করতে হয়। আবার ঝুঁকিপূর্ণ হলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার অনুমোদন নিয়ে গাছ কেটে ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে রাখা যাবে। পরে প্রকাশ্য নিলামে বিক্রি করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।
পঞ্চগড় জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।