রাজধানীর বাংলামোটরে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফুটপাতে উঠে পড়া যাত্রীবাহী ট্রাস্ট পরিবহনের চাপায় কৃষ্ণা রায় চৌধুরীর পা হারানোর ঘটনার চার দিন হয়েছে। এ সময়েও বাসের চালক, সহকারী ও মালিককে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ বিষয়ে পুলিশ বা সরকারের কারও কোনো তৎপরতা নেই উল্লেখ করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে কৃষ্ণা রায়ের পরিবার। তবে পুলিশের দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যেই গ্রেপ্তার করা হবে তাদের।
এদিকে উন্নত চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন কৃষ্ণার স্বামী রাধে দেব। তিনি জানান, হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার স্ত্রীর এক পা হাঁটুর নিচ থেকে এরই মধ্যে কাটা হয়েছে। কৃত্রিম পা লাগাতে হাঁটুর ওপর থেকে ফের কাটতে হবে পা’টি।
গত মঙ্গলবার দুপুরে বাংলামোটর ওভার ব্রিজের নিচে ফুটপাতে বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) হিসাবরক্ষণ বিভাগের সহকারী ব্যবস্থাপক কৃষ্ণা রায়কে চাপা দেয় ট্রাস্ট পরিবহনের একটি বাস। কৃষ্ণাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেখান থেকে পাঠানো হয় পঙ্গু হাসপাতালে। সেখানে তার বাঁ পায়ের হাঁটুর নিচ থেকে কেটে ফেলতে হয়েছে। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত লাগে তার।
এ ঘটনায় হাতিরঝিল থানায় বাসের চালক, সহকারী ও মালিকের বিরুদ্ধে মামলা করেন কৃষ্ণা রায়ের স্বামী রাধে দেব। দুর্ঘটনার দিনই অস্ত্রোপচার করে কৃষ্ণার পা হাঁটুর নিচে থেকে কেটে ফেলা হলেও ফের অস্ত্রোপচার করা লাগবে। হাসপাতালের চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে রাধে দেব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, কৃত্রিম পা লাগানোর জন্য হাঁটুর ওপর থেকে ফের কাটা লাগবে। কাল (আজ শনিবার) আবার ড্রেসিং করবে। শরীরে ব্যথা অনুভব রয়েছে। ওষুধ দিয়ে ব্যথা কমিয়ে রাখা হচ্ছে। আরও অন্তত এক মাস হাসপাতালে থাকা লাগবে।’
তিনি বলেন, ‘বিভিন্ন গণমাধ্যমের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসা ও আর্থিক সহায়তার জন্য আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি। প্রধানমন্ত্রী এরই মধ্যে এ বিষয়ে অবগত হয়েছেন বলে আমাদের বিশ্বাস।’
এদিকে পুলিশ ঘটনার চার দিনেও বাসের চালক, সহকারী ও মালিককে গ্রেপ্তার করতে না পারায় ক্ষোভ প্রকাশ করে রাধে দেব বলেন, ‘অপরাধীদের গ্রেপ্তারে সরকার বা পুলিশ কারও কোনো উদ্যোগ নেই। এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি হলে বেপরোয়া গতিতে বাস চলা অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে।’