ঘূর্ণিতে ‘ঝামেলায়’ আফগানরা

আফগানিস্তানের দুই ওপেনার দেখলেন তাদের কেউ আউট করতে পারেন না। তখনো পার্টটাইম বাঁ-হাতি স্পিনার আল-আমিন জুনিয়র আসেননি। প্রথম সেশনে বিসিবি একাদশের উইকেট নেই। লেগ স্পিনার জুবায়ের হোসেন লিখনে ফল নেই। ওপেনাররা ফিফটি করে ভাবলেন, অন্যদেরও তো ব্যাটিং প্র্যাকটিসের সুযোগ দেওয়া উচিত! দুজনেই অবসর নিলেন। এরপর আল আমিন এলেন। এবং ৮৮.১ ওভারে দুই দিনের ম্যাচের প্রথম দিনে আফগানদের যে ৬ উইকেট পড়ল তার ৪টি আল-আমিনের।

কী বোঝা গেল? তার আগে কিন্তু ৫ পেসার বল করেছেন। বাকি ২ উইকেট নেওয়া সুমন খান ৪৬তম ওভারে ম্যাচের প্রথম উইকেট ফেলেছেন। পরের টানা তিনটি আল-আমিনের। লিখন ১৯ ওভারে ৬৮ রান দিয়েও প্রভাব ফেলতে পারেননি। কিন্তু ১৮ ওভারে ৩ মেইডেনে ৫১ রানে আল-আমিনের ৪ উইকেট অনেক কথা বলে গেল। বিশেষ করে ৫ সেপ্টেম্বর জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে শুরু বাংলাদেশ-আফগানিস্তান একমাত্র টেস্ট প্রসঙ্গে। পার্টটাইম স্পিনারে আফগানদের এই দশা হলে নিজেদের কন্ডিশনে বাংলাদেশের চ্যাম্পিয়ন স্পিনারদের সামনে কী হাল হতে পারে!

এমএ আজিজ স্টেডিয়ামে ক্রিকেট নিয়মিত হয় না। অল্প যা সময় মিলেছে তাতে পেসারদের জন্য কিছু করা যায়নি। ন্যাড়া উইকেট। ৫ পেসার মাথা কুটে মরেছেন। তাহলে এই আফগান ব্যাটারদের স্পিনে কি বেশ দুর্বলতা? খোদ আল-আমিন বলছেন, ‘হ্যাঁ, অবশ্যই। এখানে দেখলাম নবী ভাই একটু (স্পিন) খেলছেন। উনি অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। আর যারা ছিল তারা তরুণ। আমি মনে করি আমাদের স্পিনারদের টার্ন আছে, তাদের বৈচিত্র্য আছে। অবশ্যই টার্ন ওদের ঝামেলায় ফেলবে।’ প্রসঙ্গ চট্টগ্রাম টেস্ট।

 ১৭ বছরের ইব্রাহিম জাদরান (৫২) ও ২১ বর্ষীয় ইনসানউল্লাহ জানাত (৬২) শত রানের জুটি গড়েছেন। গোটা দুয়েক ক্যাচ পড়েছে। তা বাদ দিলে টেস্টের ধৈর্য যথেষ্ট দেখিয়েছেন তারা। আল-আমিন দিনের শেষে বলছিলেন, ‘ওদের দুই ওপেনার প্রথম দিকে খুব ভালো ব্যাট করেছেন। আমার মনে হয়েছে পেসের বিপক্ষে ওরা ভালো শক্তিশালী।’

বাংলাদেশ দল উইন্ডিজের বিপক্ষে শেষ হোম সিরিজে চার স্পিনার নিয়ে খেলেছে। শেষ টেস্টে কোনো পেসার ছিল না। তাতে জয় আরও বড়। চট্টগ্রাম টেস্টে আফগানদের বিপক্ষে ‘অল স্পিন’ অ্যাটাক ফর্মুলার কথাই যেন বলে গেল দুই দিনের ম্যাচের প্রথম দিনটা।

একেবারে নির্দিষ্ট করে ‘অল স্পিন’ আক্রমণের কথা নয়, তবে ৪০ ফার্স্ট ক্লাস ম্যাচ খেলা ২৫ বছরের আল-আমিনের কথার সুর সেদিকেই ধাবিত। যে দলে সাকিব আল হাসান, তাইজুল ইসলাম, মেহেদী হাসান মিরাজ, নাঈম হাসানের মতো ‘স্পিন কোয়ার্টেট’ সে দলে পার্টটাইম স্পিনারও আছে। তাহলে পেসারের দরকার কি!

‘আমার কাছে মনে হয় উইকেট যেমনই হোক আমাদের শক্তি কোনদিকে সেটা আমাদের জানতে হবে’...বলছিলেন আল-আমিন ‘আমাদের জাতীয় দলে খুব ভালো ভালো স্পিনার আছেন। সেক্ষেত্রে আমাদের জন্য স্পিনই খুব ভালো হবে।’

সুমন নিয়েছেন দিনের প্রথম ও শেষ উইকেট, জাভেদ আহমাদি (৩) ও মোহাম্মদ নবীকে (৩৩) । অভিজ্ঞ রহমত শাহ (৭), আসগার আফগান (১৬), হাশমাতউল্লাহ (২৬) ও ইকরাম আলি খিল (১) আল-আমিনের শিকার। কথা হলো, বিসিবি একাদশ এমন খেলোয়াড়দের নিয়ে তৈরি যারা আসলে এখন জাতীয় দলের ভাবনাতে নেই। ‘এ’ দলেও এর থেকে সুযোগ পাবেন কম। সেই দলের বিপক্ষে আফগানদের এমন যুঝতে হলে বাংলাদেশের মূল দলের বিপক্ষে টেস্টে থই পাবে তো?

সংক্ষিপ্ত স্কোর

আফগানিস্তান ১ম ইনিংস: ২৪২/৬ (ইহসানউল্লাহ ৬২, ইব্রাহিম ৫২, জাভেদ ৩, রহমত ৭, হাশমাতউল্লাহ ২৬, আসগার ১৬, নবী ৩৩, ইকরাম ১, আফসার ২০*, রাশিদ খান ৬*; আল আমিন ৪/৫১, সুমন ২/২১, লিখন ০/৬৮)।